“পুতিন সকালে মিষ্টি কথা বলেন, রাতে বোমা মারেন”-রেগে গিয়ে ইউক্রেনকে মিসাইল গিফট ট্রাম্পের

রাশিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম দেওয়া হবে। রাশিয়ার লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সুরক্ষার কথা ভেবে তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অস্ত্রের সমস্ত খরচ ইউক্রেনকেই বহন করতে হবে। এর পাশাপাশি তিনি কিয়েভকে আরও উন্নত অস্ত্র দেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালাতে সক্ষম হবে।
এই প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে তীব্র কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি খুব ভালো ভালো কথা বলেন, তারপর রাতে এসে বোমা মারেন। এমন নেতাকে আমি বিশ্বাস করতে পারি না।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর ওপর প্রভাব: কংগ্রেসে নতুন বিল
রবিবার মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৫০০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা দিতে একটি দ্বিদলীয় বিল পেশ হয়েছে। এই বিলটি কার্যকর হলে তা চিন, ভারত এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলিকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে, যদি তারা রাশিয়াকে সামরিক বা অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করে।
রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই বিল প্রসঙ্গে বলেন, “এটা ট্রাম্পের জন্য এক হাতুড়ি, যার মাধ্যমে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সমর্থন করা সব দেশের উপর চাপ প্রয়োগ করা যাবে।” এই পদক্ষেপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবার তাদের মিত্র দেশগুলোর উপরও চাপ বাড়াতে প্রস্তুত।
ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সরবরাহ এবং সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের এই ঘোষণাগুলি ইউক্রেন সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানকে আরও একবার তুলে ধরল। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কী সমীকরণ তৈরি হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।