বাঁকুড়া টাউন বালিকা বিদ্যালয়ে গানের অডিশন ঘিরে বিতর্ক, স্কুল ছুটি নিয়ে সমালোচনার ঝড়

স্কুল ছুটি দিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গানের অডিশনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া শহরে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাঁকুড়া টাউন বালিকা বিদ্যালয়ের মতো একটি প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সংগঠনগুলি, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

অভিযোগ উঠেছে যে, গত শনিবার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্কুল চালু থাকার কথা থাকলেও, পঠনপাঠন বন্ধ করে বাঁকুড়া টাউন গার্লস হাইস্কুলে একটি বেসরকারি চ্যানেলের গানের অডিশন পরিচালিত হয়। এই ঘটনা নিয়ে শহরজুড়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, “স্কুল বন্ধ রেখে বেসরকারি সংস্থার অডিশন চালানো রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এটি কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।” তিনি আরও জানান, বেসরকারি সংস্থাকে ক্লাস বন্ধ রেখে স্কুল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান শিক্ষিকার নেই। এর জন্য বিদ্যালয় পরিদর্শকের অনুমোদন নেওয়া আবশ্যিক ছিল, যা এক্ষেত্রে মানা হয়নি।

বাঁকুড়া টাউন গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষিকা বছরে দু’দিন ছুটি দিতে পারেন। তবে তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের পাল্টা যুক্তি, এই ধরনের ছুটি স্থানীয় কোনো অনুষ্ঠান বা জরুরি অবস্থার জন্য প্রযোজ্য। কোনো বেসরকারি সংস্থার বাণিজ্যিক অডিশনের জন্য স্কুল বন্ধ রাখাটা নিয়মের বাইরে। তাদের মতে, অডিশন যদি করতেই হয়, তাহলে ছুটির দিনে করা যেতে পারত।

অভিভাবকরাও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, “বেসরকারি চ্যানেলের গানের অডিশন হোক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। এতে শহরের নবীন প্রতিভাদের বিকাশের সুযোগ ঘটে। কিন্তু স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ রেখে এই ধরনের আয়োজন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি করে এই কাজ করা উচিত হয়নি।”

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারই স্কুলগুলির শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, বাঁকুড়ার শিক্ষা মহলে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে।