ডোবা স্কুল, ডুবে যাচ্ছে শৈশব! জায়গায় জায়গায় জমে জল, প্রবল সমস্যায় গড়াইমারি প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়ারা

বর্ষার এক পশলা বৃষ্টি। আর তাতেই তলিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা, তলিয়ে যাচ্ছে শৈশবের স্বাভাবিক ছন্দ। মুর্শিদাবাদের ডোমকলের গড়াইমারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ – যেখানে প্রতি বছর বর্ষা এলেই চিত্রটা বদলায় না। স্কুলের পোশাক পরে হাঁটুজল ভেঙে, কখনও বা জল পার করে স্কুলে যেতে হচ্ছে কচিকাঁচাদের। গত চার-পাঁচ বছর ধরে এই একই ভয়ঙ্কর ছবি এখানকার নিত্যসঙ্গী, আর এর শিকার হচ্ছে এলাকার ভবিষ্যৎ।
স্কুল চত্বরে জল জমার কারণে অনেক পড়ুয়া স্কুলে আসছেই না। যা আসছে, তাদের পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে চরমভাবে। এক অভিভাবকের দাবি, জলের কারণে তাদের সন্তানরা স্কুলে আসতে ভয় পাচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের চরম গাফিলতির কথাও তুলে ধরেছেন।
রাস্তার ধারে, তবুও কেন ‘জলবন্দি’?
গড়াইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্ত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রাস্তার ধারে, জনবহুল এলাকাতেই অবস্থিত। কিন্তু স্কুল চত্বরটি তুলনামূলকভাবে নিচু হওয়ায়, সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। যার ফলে সমস্যায় পড়তে হয় কেবল পড়ুয়াদেরই নয়, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও।
মিড-ডে মিলও জলে, প্রার্থনার প্রেয়ার লাইন উধাও
এক শিক্ষিকা বেদনাহত কণ্ঠে জানালেন, “কয়েক বছর থেকে একই সমস্যায় ভুগছি আমরা। প্রার্থনার জন্য প্রেয়ার লাইন করা যাচ্ছে না। ঠিকমতো পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি মিড-ডে মিলের জন্য পর্যন্ত পড়ুয়াদের জলের মধ্যেই দাঁড়াতে হচ্ছে। যা দেখে খারাপ লাগলেও কিছু করার থাকছে না।”
স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজিবুল ইসলাম এই অসহায়ত্বের ছবিটা আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই সমস্যার কথা বহুবার ব্লক থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, কোনো সুরাহা মেলেনি। যার ফলে, বাধ্য হয়েই ‘জলের মধ্যেই স্কুল’ চলছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের উপস্থিতিতে – অনেক পড়ুয়াই জলের কারণে স্কুলে আসছে না।
নিয়মের বেড়াজাল নাকি ইচ্ছার অভাব?
এই ঘটনায় গড়াইমারি পঞ্চায়েতের প্রধান হাসানুজ্জামান মন্ডল দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য, “নিয়মের বেড়াজালে আটকে থাকায় কোনো ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।” এই ‘নিয়মের বেড়াজাল’ শব্দটিই প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার এমন দুরবস্থা সত্ত্বেও কেন বছরের পর বছর ধরে একটি সমাধানসূত্র খুঁজে বের করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
কচিকাঁচাদের ভবিষ্যৎ যখন জলবন্দি, তখন প্রশাসনের ‘নিয়মের বেড়াজাল’ কি তাদের অসহায়তার অজুহাত মাত্র, নাকি সত্যিই এর পেছনে রয়েছে গুরুতর কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা? এই প্রশ্নই এখন মুর্শিদাবাদের গড়াইমারির বাতাসে ভাসছে। স্কুলটি কবে এই জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুণছে এলাকার পড়ুয়ারা।