ইতিহাসের পর্দা সরিয়ে, ৩৭০ বছর পর জনসাধারণের জন্য খুলল শাহজাহানের তৃতীয় স্ত্রীর ‘শিশমহল’

মোগল সম্রাট শাহজাহান তাঁর অমর প্রেমের নিদর্শন হিসেবে মমতাজ বেগমের স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন তাজমহল। তবে এবার জানা গেল, তাঁর তৃতীয় স্ত্রী আইজু নিশা বেগমের স্মৃতিতেও তিনি এক অসাধারণ স্থাপত্যকীর্তি নির্মাণ করেছিলেন— যা প্রায় ৩৭০ বছর ধরে সাধারণের চোখের আড়ালে ছিল। দিল্লির এই অনন্য মোগল স্থাপত্যটি সম্প্রতি সংরক্ষণের কাজ শেষ করে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI), এবং চলতি জুলাই মাসের শুরুতেই এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।
দিল্লির বিখ্যাত শালিমার বাগের মধ্যে অবস্থিত এই ‘শিশমহল’ মোগল স্থাপত্য ও শিল্পের এক অসাধারণ নিদর্শন। দীর্ঘকাল ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন দর্শনার্থীরা অনায়াসেই ঘুরে দেখতে পারবেন।
শিশমহলের চারধারে রয়েছে সুসজ্জিত বাগান, যা এর মনোরম পরিবেশকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মনে হয় যেন ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে আনা একটি স্বপ্নময় প্রাসাদ। ১৬৫৮ সালে এখানেই শাহজাহানের পুত্র ঔরঙ্গজেবের রাজ্যাভিষেকও হয়েছিল, যা এই শিশমহলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে শিশমহলের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল হয়ে পড়েছিল। তবে এএসআই-এর নিবিড় সংরক্ষণের ফলে এটি আবার তার পুরনো জৌলুস ফিরে পেয়েছে। এই স্থাপত্যকে রক্ষা করার জন্য এএসআই মোগল যুগে ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী ও কৌশল অনুসরণ করেছে। মোগল যুগে যে ধরনের ইট বা সুরকি স্থাপত্য নির্মাণে ব্যবহার হতো, সেগুলিই এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি গুড়, বেলের আঠার মতো প্রাকৃতিক উপাদান, যা সেই সময় কোনও কিছু জোড়া লাগানোর জন্য ব্যবহৃত হত, সেগুলিও শিশমহলের সংস্কারে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ কেবল একটি স্থাপত্যকে রক্ষা করেনি, বরং মোগল আমলের এক লুকানো অধ্যায়কে জনসাধারণের সামনে নিয়ে এসেছে। শিশমহলের দ্বার উন্মোচন ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী সকলের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।