প্রেমের ‘শাস্তি’ ঘাড়ে জোয়াল, ওড়িশায় নবদম্পতিকে দিয়ে হাল চাষ, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় প্রশাসন

প্রেম করে বিয়ে করার ‘শাস্তি’ হিসেবে ঘাড়ে জোয়াল চাপিয়ে নবদম্পতিকে দিয়ে মাঠে হাল চাষ করানোর এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে ওড়িশার রায়গড়া জেলায়। এই অমানবিক ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ধানের খেতের কাদাজলে নবদম্পতিকে জোরপূর্বক ঘাড়ে জোয়াল চাপিয়ে হাল টানতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের পেছনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী, কেউ তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে, আবার কেউ হাততালি দিয়ে এই অমানবিক দৃশ্যে উৎসাহ যোগাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতি গ্রামেরই বাসিন্দা এবং প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন। তবে তাঁদের এই সম্পর্ক গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মেনে নিতে পারেনি। সেই প্রেক্ষিতেই স্থানীয় রীতি ভাঙার অভিযোগ তুলে তাঁদের এই ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে। পরে ওই দম্পতিকে স্থানীয় মন্দিরে নিয়ে গিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ও করা হয় বলে জানা গেছে।

দ্য ওয়াল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না করলেও, সমাজমাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জেলা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নামে। রায়গড়ার পুলিশ সুপার এস স্বাতী কুমার জানিয়েছেন, “স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।” প্রশাসনের একাংশ এই ধরনের আচরণকে সম্পূর্ণ অমানবিক এবং আইনবিরুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, রায়গড়া জেলায় এই ধরনের ‘শুদ্ধিকরণ’ বা সামাজিক শাস্তির ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও অন্য জাতের পুরুষকে বিয়ে করার অপরাধে এক পরিবারের ৪০ জনকে মাথা কামিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই ঘটনা আবারও সমাজের অন্ধকার দিকের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরল, যেখানে প্রেম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আজও রক্ষণশীলতার কাছে বলি হচ্ছে।