বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রে আগুন, বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা, শুভেন্দুর নিশানায় তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রে মেদিনীপুরের বীর বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘জঙ্গি’ হিসাবে উল্লেখ করার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘ইচ্ছাকৃত ইতিহাস বিকৃতি’ আখ্যা দিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, এই বিতর্কের নেপথ্যে রয়েছে শাসকদল তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ‘ওয়েবকুপা’ এবং এর সদস্যরাই।
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে লেখেন, “মেদিনীপুরের বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী, জঙ্গি’ তকমা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের।” তিনি এর গভীরে গিয়ে বলেন, “এটা অজান্তে নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে, ২০২৩ সালেও একই ঘটনা।” তাঁর অভিযোগের তীর সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান নির্মল কুমার মাহাতোর দিকে, যিনি তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার একজন সদস্য। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া মন্তব্য, “বারবার ভুল করার পরেও নির্মল মাহাতোর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। উল্টে তাঁকে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার জয়েন্ট সেক্রেটারি করে দেওয়া হয়েছে।” এর মাধ্যমে তিনি শাসকদলের ছত্রছায়ায় ইতিহাস বিকৃতির মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
এই ঘটনার পর শিক্ষামহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলিও এই ধরনের প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বারবার একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি কেন হচ্ছে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। এই বিতর্ক একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর সৃষ্টি করেছে।
মুর্শিদাবাদে ‘পথশ্রী’র দুর্দশা: অন্তঃসত্ত্বাকে খাটিয়ায় হাসপাতালে, উন্নয়নের দাবি প্রশ্নচিহ্নের মুখে
এদিকে, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামোর চরম বেহাল দশার এক করুণ চিত্র উঠে এসেছে মুর্শিদাবাদের সুতি থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মতোই সুতি ১ নম্বর ব্লকে বেহাল রাস্তার কারণে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় বছর আগে পারাইপুর গ্রামে ১ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য ৩৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি সংস্থাকে এই কাজের বরাত দেওয়া হলেও, অভিযোগ, গত দেড় বছরে সেই সংস্থা এক মিটারও কাজ শুরু করেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামের রাস্তা কাদা ও জলে ভরে যায়, যার ফলে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনও যান চলাচল করতে পারে না। এর পরিণতিতে, অসুস্থ রোগীদের, বিশেষ করে প্রসূতিদের, চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন ইতিহাসের বিকৃতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিচ্ছে, তেমনই তৃণমূল সরকারের ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের প্রকৃত রূপায়ন এবং গ্রামীণ উন্নয়নের দাবিকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।