পারিবারিক বিবাদের বলি ছোট ভাই, গোঘাটে দাদার হাতে ভাই খুন, স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা!

হুগলির গোঘাটে এক মর্মান্তিক পারিবারিক বিবাদের জেরে দাদার হাতে ছোট ভাই খুন হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোঘাটের রঘুবাটি অঞ্চলের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। দাদার মারধরে ৩৮ বছর বয়সী উৎপল ঘোষের প্রাণ হারানোর পর অভিযুক্ত দাদা চঞ্চল ঘোষকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, নিহত উৎপল ঘোষ এবং অভিযুক্ত দাদা চঞ্চল ঘোষ দুজনেই আরামবাগ এসডিও অফিসের সামনে টাইপিংয়ের কাজ করতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিষয়ে অশান্তি চলছিল। বৃহস্পতিবার দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বচসা বাধে, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, সেই সময় চঞ্চল রাগের মাথায় উৎপলকে বেধড়ক মারধর করেন এবং তাঁর অন্ডকোষে লাথি মারেন। লাথির আঘাতেই ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন উৎপল। তড়িঘড়ি তাঁকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ভয়াবহ মৃত্যুসংবাদ সহ্য করতে না পেরে নিহত উৎপলের স্ত্রী শ্রাবন্তী ঘোষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। জানা গেছে, তিনি বাড়ির পাশেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ঘটনার পর গোঘাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযুক্ত চঞ্চল ঘোষকে আটক করা হয়েছে, যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। মৃত উৎপলের রয়েছে একমাত্র ১০ বছরের সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা মহাদেব ঘোষ। পাড়ার লোকজন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ। তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, পারিবারিক ঝামেলার এত ভয়ানক পরিণতি হতে পারে।

মুর্শিদাবাদেও বেহাল পরিকাঠামো: ‘পথশ্রী’র নামে প্রহসন, প্রসূতিকে খাটিয়ায়

এদিকে, হুগলির এই মর্মান্তিক ঘটনার পাশাপাশি রাজ্যের অন্য প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে বেহাল পরিকাঠামোর চিত্র। মুর্শিদাবাদের সুতি-১ ব্লকের হারুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত পারাইপুর গ্রামে ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের নামে প্রহসন চলছে। দু’বার রাস্তা তৈরির কাজের উদ্বোধন হলেও, বাস্তবে সেখানে কোনও রাস্তা নেই! এর ফলস্বরূপ, অসুস্থ প্রসূতিদের চিকিৎসার জন্য খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে পারাইপুর গ্রামে ১ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য ৩৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা এখনও পর্যন্ত এক মিটারও কাজ শুরু করেনি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রামের রাস্তা কাদায় ভর্তি এবং একজন গর্ভবতী মহিলাকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা খাটিয়ায় বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনা আবারও রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ব্যর্থতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রতি প্রশাসনিক উদাসীনতাকে তুলে ধরছে।