এবিপি আনন্দের সম্প্রচারের পরেই ঘুম ভাঙল প্রশাসনের! নারায়ণগড়ে মাপজোক শুরু, কিন্তু দুর্দশার দায় কার?

এবিপি আনন্দে দুর্দশার চিত্র সম্প্রচারিত হওয়ার পরেই অবশেষে টনক নড়ল প্রশাসনের! পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তায় ‘নরক যন্ত্রণা’ ভোগ করার পর, অবশেষে রাস্তা মাপার কাজ শুরু করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এতদিন এই উদ্যোগ কোথায় ছিল? একজন হৃদরোগে আক্রান্ত বয়স্ক মানুষকে আজ যে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে হাসপাতালে যেতে হলো, সেই দায় কি প্রশাসন এড়াতে পারে? এই ঘটনা প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রতি অবহেলার চিত্রই তুলে ধরছে।

মুর্শিদাবাদেও একই ছবি: ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের ফাঁকি, খাটিয়ায় প্রসূতি

পশ্চিম মেদিনীপুরের পর একই ধরনের দুর্দশার ছবি উঠে এসেছে মুর্শিদাবাদের সুতি থেকে। সুতি ১ নম্বর ব্লকে বেহাল রাস্তার কারণে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এই এলাকায় রাস্তা তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল একটি সংস্থাকে। ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য ৩৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় বছরে সেই সংস্থা এক মিটারও রাস্তা তৈরি করেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামের রাস্তা কাদা ও জলমগ্ন হয়ে পড়ে, যা যাতায়াতকে সম্পূর্ণ অযোগ্য করে তোলে। অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনও গাড়ি ঢুকতে না পারায়, অসুস্থদের, বিশেষ করে প্রসূতিদের, খাটিয়ায় বহন করে নিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

এই দুটি ঘটনাই রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামোর বেহাল দশা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম গাফিলতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। যখন সংবাদমাধ্যম বিষয়টি তুলে ধরছে, তখনই প্রশাসনের ঘুম ভাঙছে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত এই গ্রামগুলির হাজার হাজার বাসিন্দা যে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, তার দায়ভার কে নেবে? সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন, প্রশাসনের সক্রিয়তা কি কেবল সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভরশীল? এই ঘটনাগুলি জনস্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *