মেয়ের রোজগারে ‘বসে খাওয়ার’ কটাক্ষ, অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েকে খুন করল বাবা! চাঞ্চল্যকর তথ্য রাধিকা কাণ্ডে

উঠতি টেনিস খেলোয়াড়, আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত নাম— রাধিকা যাদব। নিজেই তৈরি করেছিলেন একটি টেনিস অ্যাকাডেমি, যেখানে তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিতেন। কিন্তু সেই মেয়ের জীবনই শেষ হয়ে গেল নিজের বাবার হাতে! আর কারণ? গ্রামের লোকজনের কটাক্ষ— “মেয়ের রোজগারে বসে খাচ্ছেন!”
বৃহস্পতিবার, গুরুগ্রামের নাথুপুর গ্রামে ঘটে এই হাড়হিম করা ঘটনাপাঁচ রাউন্ড গুলি চালান রাধিকার বাবা দীপক যাদব। তিনটি গুলি লাগে রাধিকার বুকেঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২৪ বছর বয়সি এই টেনিস তারকার।প্রথমে পরিবারের তরফে কিছু না জানালেও, রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদব থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।সঙ্গে সঙ্গেই দীপককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
পুলিশি জেরায় দীপক যাদব খুনের কথা স্বীকার করেন।তিনি জানান—“গ্রামের লোকজন বলত, আমি নাকি মেয়ের টাকায় চলি। আমার সম্মানহানি হচ্ছিল। মেয়েকে বহুবার বলেছিলাম অ্যাকাডেমিটা বন্ধ করতে। কিন্তু সে শোনেনি। শেষে রাগ চেপে রাখতে পারিনি… রান্নাঘরে গিয়ে গুলি চালাই।”
দীপক আরও জানান, নিজের লাইসেন্সড রিভলভার দিয়েই মেয়েকে গুলি করেন তিনি।
এই ঘটনায় এখনও কোনও মন্তব্য করেননি রাধিকার মা।তবে কুলদীপ যাদব জানান,“রাধিকা অত্যন্ত প্রতিভাবান মেয়ে ছিল। ওকে এভাবে হারাতে হবে ভাবতেই পারছি না। এমন নিষ্ঠুর পরিণতি ওর প্রাপ্য ছিল না।”
কে ছিলেন রাধিকা যাদব?
আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের র্যাঙ্কিংয়ে ১১৩ নম্বরে ছিলেন রাধিকা।ডাবলসে পৌঁছে গিয়েছিলেন শীর্ষ ২০০-র মধ্যে।ছোট বয়স থেকেই খেলাধুলোয় দারুণ পারদর্শী ছিলেন। নিজস্ব অ্যাকাডেমির মাধ্যমে অনেক উঠতি খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।
এই ঘটনা ফের সামনে আনল লিঙ্গবৈষম্য, সম্মানহানির ভয় এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ভয়ঙ্কর দিক।যেখানে মেয়ের সাফল্য গর্বের কারণ হওয়ার বদলে হয়ে উঠছে অপমানের বোঝা,সেখানে সমাজ ও পরিবার— দু’য়েরই ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
পুলিশ জানিয়েছে, দীপকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।