OMG! সাপ নিয়ে খেলছিল ৬ বছরের শিশু, বিষধরের কামড়ে গেলো প্রাণ, শোকে পরিবার

খেলার ছলে সাপের লেজ ধরে টানার মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল রায়গঞ্জের লক্ষণীয়া গ্রামে। বিষধর সাপের ছোবলে প্রাণ হারাল ৬ বছরের এক শিশুকন্যা, আনিকা মাহাতো। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, শোকস্তব্ধ পরিবার।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, করণদিঘি থানার কামারতোর এলাকার বাসিন্দা আনিকা তিন দিন আগে তার মা দীপ্তি মাহাতো এবং দুই ভাইয়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। গত মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির উঠোনে খেলছিল তিন ভাইবোন। খেলার ছলেই তারা হঠাৎ একটি সাপ ধরে ফেলে। বাড়ির বড়দের অলক্ষ্যে, সাপের লেজ ধরে টানাটানি করার সময়ই ঘটে যায় এই বিপত্তি। লেজে টান পড়তেই সাপটি আনিকার পায়ে ছোবল মারে। মুহূর্তের মধ্যেই সে অচৈতন্য হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আনিকার দুই ভাইয়ের চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দ্রুত সাপটিকে জঙ্গলের দিকে যেতে দেখে গ্রামবাসীরা সেটিকে ধরে ফেলেন এবং একটি হাঁড়ির মধ্যে বন্দী করেন। সঙ্গে সঙ্গে অচেতন আনিকাকে মহারাজা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন। দীর্ঘক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক আনিকাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বুধবার বিকেলে ছোট্ট আনিকার মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। মেয়ের অকালমৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই নেমে আসে গভীর শোক। শিশুটির মা দীপ্তি মাহাতো কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেরলে কর্মরত আনিকার বাবা রাজেশ মাহাতো মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ও দুঃখে বুধবার দুপুরে হাঁড়িবন্দি সাপটিকে পিটিয়ে মেরে পুড়িয়ে দেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সাপের উপদ্রব এবং শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল।