ড্রোন-মিসাইলের পর ‘লেজার’ যুদ্ধ? চিন-জার্মানির উত্তেজনার মাঝে শুরু হয়েছে জোর পর্যালোচনা

লোহিত সাগরে জার্মান বিমানের ওপর লেজার হামলার অভিযোগ ঘিরে চীন ও জার্মানির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যদিও বেইজিং বরাবরের মতোই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে লেজার অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং এর সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি, জার্মান কর্মীদের নিয়ে উড়ে যাওয়া একটি বেসামরিক বিমানকে লোহিত সাগরে লেজার রশ্মি দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ ওঠে। লেজার হামলার পরপরই পাইলট জিবুতিতে ইউরোপীয় ঘাঁটিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দ্রুত তদন্ত শুরু করে লেজার রশ্মির উৎস খুঁজতে থাকে।

প্রাথমিক জার্মান তদন্তে জানা গেছে, লেজার রশ্মিটি এডেন উপসাগরের কাছে আরব সাগরে অবস্থিত একটি চীনা যুদ্ধজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে জার্মানি ‘গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

লেজার অস্ত্র: ভবিষ্যতের যুদ্ধাস্ত্র?

বিদেশী বিমানের বিরুদ্ধে লেজার ব্যবহারের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে, তবে প্রতিবারই সংশ্লিষ্ট দেশগুলি তা অস্বীকার করেছে। তবুও, এই ঘটনা আবারও অত্যাধুনিক লেজার অস্ত্রের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং এর বিধ্বংসী ক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামরিক মহলে আলোচনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা পরীক্ষাগারগুলি এমন শক্তিশালী লেজার রশ্মি তৈরির জন্য কাজ করছে যা আকাশের লক্ষ্যবস্তুগুলিকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে এই লেজার রশ্মি ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি, আরও শক্তিশালী লেজার রশ্মির মাধ্যমে যুদ্ধবিমান পাইলটদের অন্ধ করে দেওয়া এবং বিমান ধ্বংস করাও সম্ভব হতে পারে।

সাম্প্রতিককালের যুদ্ধগুলিতে, যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ – এই সবক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তিতে লেজার রশ্মির ব্যবহার শুরু হয়েছে।

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে লেজার অস্ত্র একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। তবে, এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিও বাড়ছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।