OMG! পুকুর থেকে মিলল নাবালিকার অর্ধনগ্ন-গলিত মৃতদেহ, ঘটনায় ছড়ালো চাঞ্চল্য

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে এক মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর অর্ধনগ্ন ও পচাগলা দেহ আজ, মঙ্গলবার, একটি নির্জন পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, এটি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা। এই ভয়াবহ ঘটনায় কুমারগঞ্জ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার স্কুল গিয়েছিল ওই নাবালিকা। তারপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার কুমারগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও কোনো সন্ধান মেলেনি। তিন দিন পর আজ সকালে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে একটি ধূ ধূ প্রান্তরের মাঝখানে অবস্থিত পুকুর থেকে তার পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। দেহের উপরের অংশে পোশাক না থাকায় প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও পরিবার ধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা করছে।
মৃতার বাবা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “মেয়ে স্কুলে গিয়েছিল, এরপর আর ফেরেনি। মেয়ের উপরের অংশে কাপড় নেই, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।” তাঁর এই বক্তব্যে এলাকার মানুষের মধ্যে আরও বেশি ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
কুমারগঞ্জ থানার আইসি রামপ্রসাদ চাকলাদার জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিজেপি সাংসদের ক্ষোভ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, নাবালিকাটি টানা তিন দিন নিখোঁজ থাকার পরও “নির্লজ্জ প্রশাসন”-এর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও লেখেন, “গ্রাম হোক বা শহর, তৃণমূল সরকারের জঙ্গলরাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ এই মুহূর্তে মহিলাদের জন্য আতঙ্কের বধ্যভূমি। মহিলাদের উপর পৈশাচিক নির্যাতন থেকে খুন, প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে ঘটলেও দুর্বৃত্তদের সংরক্ষণকারী দলদাস পুলিশ শুধুই নীরব দর্শক।” সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
এই জঘন্যতম ঘটনা কুমারগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।