শুল্ক আরোপের পর বাড়ানো হলো ট্যারিফের ডেডলাইন, ফের পিছু হঠলেন ট্রাম্প?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বহুল আলোচিত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে এবার কিছুটা স্বস্তি দিলেন। বিভিন্ন দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক বৃদ্ধির যে সময়সীমা ৯ জুলাই নির্ধারিত ছিল, তা ১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন তিনি। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা বিশ্ব বাণিজ্য মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারস্পরিক শুল্ক অব্যাহতির সময়সীমা ৯ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর আদেশে স্বাক্ষর করবেন। এর আগে ২ এপ্রিল ট্রাম্প ভারত সহ বহু দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় তীব্র প্রতিবাদের মুখে তিনি ৯০ দিনের জন্য এই শুল্কের প্রয়োগ স্থগিত করেছিলেন, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছিল ৯ জুলাই।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সময়সীমা বৃদ্ধিকে আলোচনার জন্য আরও তিন সপ্তাহের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের সুযোগ পাবে।

তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সোমবার বিশ্বজুড়ে ১৪টি দেশের কাছে ‘শুল্ক বোমা’ সম্বলিত বাণিজ্য চিঠি পাঠিয়েছেন। এই দেশগুলির মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মায়ানমার, লাওস, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, তিউনিশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সার্বিয়া, কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ড রয়েছে। এই দেশগুলির ওপর ২৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করা হয়েছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে মিয়ানমার ও লাওসের ওপর। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপর ৩৬ শতাংশ, বাংলাদেশ ও সার্বিয়ার ওপর ৩৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক ধার্য হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তান এবং তিউনিসিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও বলেছেন, এই শুল্ক হারগুলি বাণিজ্য ঘাটতি পুরোপুরি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় হারের চেয়ে অনেক কম। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকা এই দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, যদি তা আরও ন্যায্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

সবকিছুর মাঝে ভারতের জন্য সুখবর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও পর্যন্ত ভারতের উপর কোনও শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেননি। বরং ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে শীঘ্রই একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছি।” তিনি আরও জানান, “আমরা ব্রিটেন এবং চীনের সঙ্গেও একটি চুক্তি করেছি।”

ট্রাম্পের মতে, “যেসব দেশকে শুল্ক পত্র পাঠিয়েছি তাদের সঙ্গেও দেখা করেছি। আমরা মনে করি না যে আমরা কোনও চুক্তি করতে পারব, তাই তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমরা অন্যান্য দেশগুলিকে চিঠি পাঠাচ্ছি, যেখানে তাদের জানানো হচ্ছে যে তাদের কত শুল্ক দিতে হবে।” ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই শুল্ক আরোপের পর কিছু দেশ কিছু সামঞ্জস্য ঘটাতে পারে, তবে তা নির্ভর করবে তাদের কাছে বৈধ কারণ আছে কিনা তার উপর।

এই শুল্ক নীতি এবং সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।