এসএসসি ২০১৬ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, ‘অযোগ্যরা’ বসতে পারবে না নতুন পরীক্ষায়

২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বড়সড় সংশোধনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ আজ এক যুগান্তকারী রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পূর্ববর্তী রায়ে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত প্রার্থীরা এসএসসির নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। এই নির্দেশ কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, ২০১৬ সালের এসএসসি-র জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিটি কলকাতা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বে চিহ্নিত ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদেরও পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গত ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল এবং সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশেই চাকরিরতদের ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ – এই দুটি স্পষ্ট গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল। বিচারপতি তাঁর নির্দেশে জোর দিয়ে বলেছেন, এই বিভাজন ছিল সুস্পষ্ট এবং এতে কোনো অস্পষ্টতা ছিল না। তাই, সেই নির্দেশ অনুযায়ী ‘দাগী’ বা ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত কোনো প্রার্থী নতুন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
বিজ্ঞপ্তি সংশোধনের নির্দেশ:
হাইকোর্ট স্কুল সার্ভিস কমিশনের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৯ মে এসএসসি নিয়োগের নতুন নিয়ম সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল এবং তার পরের দিন, অর্থাৎ ৩০ মে, নতুন নিয়োগের মূল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। কলকাতা হাইকোর্ট এই ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তিতেই প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে।
এই রায়ের ফলে এসএসসির নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং পূর্বে যারা অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে চিহ্নিত হয়েছিলেন, তাদের নতুন করে পরীক্ষায় বসার সুযোগ থাকবে না। এটি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, তবে আদালতের এই কঠোর অবস্থান নিয়োগ দুর্নীতি দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।