“খোলাই রইল কলেজের ইউনিয়ন রুম”-হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য, তোলপাড় রাজ্যজুড়ে

কসবার ল’কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন উত্তাল, তখন কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে প্রকাশ্যে বুড়ো আঙুল দেখানোর অভিযোগ উঠেছে খোদ দুর্গাপুরের একটি সরকারি কলেজের বিরুদ্ধে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, রাজ্যের সমস্ত কলেজের ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ে দিব্যি খোলা রয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কার্যালয়, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
**হাইকোর্টের নির্দেশ ও তার প্রেক্ষাপট:**
সম্প্রতি কসবার এক ল’কলেজে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ এবং তার নগ্ন ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগের তির ছিল ইউনিয়নের নেতা মনোজিৎ মিশ্র ও তার দুই সহযোগীর দিকে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দেন যে, আপাতত রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন অফিস তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে। এই নির্দেশ জারির পর রাজ্যের একাধিক কলেজের ইউনিয়ন অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
**দুর্গাপুরে নির্লজ্জ অমান্য?**
তবে, হাইকোর্টের এই নির্দেশকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে দুর্গাপুরের সরকারি মহাবিদ্যালয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কার্যালয় সকাল থেকেই খোলা ছিল এবং সেখানে স্বাভাবিক কাজকর্মও চলেছে। এই ঘটনা আদালতের নির্দেশ অমান্যের শামিল বলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, তারা নাকি এ বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশিকা হাতে পাননি।
**ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর:**
কসবার গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রকে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু গণধর্ষণই নয়, এর আগেও এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ ছিল, কিন্তু সে সময়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর এই কারণেই কসবা কাণ্ড সামনে আসার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউনিয়ন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কলেজের ছাত্র সংসদ বন্ধ রাখার আর্জি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। সেই মামলার রায়েই কলকাতা হাইকোর্ট গোটা রাজ্যের সমস্ত ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু খোদ একটি সরকারি কলেজেই সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না দেখে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আইন সবার জন্য সমান নয়? শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষামহল এবং বিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, একটি স্পর্শকাতর গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশকেও যদি এভাবে উপেক্ষা করা হয়, তবে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিক্ষার পরিবেশের কী হবে? এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে ছাত্র রাজনীতি এবং কলেজের স্বশাসনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
—
“`