TMC নেতার উপর গুলি, গ্রেফতার BJP বিধায়কের ছেলে, কোচবিহারে কাণ্ডে নয়া মোড়

কোচবিহারের রাজনৈতিক আকাশ যেন হঠাৎই কালো মেঘে ঢেকেছে। তৃণমূল নেতা রাজু দে-কে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় গ্রেফতার হলেন খোদ কোচবিহার উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের পুত্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলায় তীব্র চাঞ্চল্য এবং রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, এ কি নিছকই এক অপরাধ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?
গত বৃহস্পতিবার রাত তখন এগারোটা। কোচবিহার-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং চকচকা অঞ্চলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি, পরিচিত তৃণমূল মুখ রাজু দে ঝিনাইডাঙা এলাকা দিয়ে দলের কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। আচমকাই কালো রঙের একটি স্করপিও গাড়ি থেকে দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন রাজু। আশঙ্কামুক্ত হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছে তাঁর।
এই ঘটনার পর থেকেই কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর জল্পনা। তৃণমূলের অভিযোগের তির ছিল বিজেপির দিকে। শাসক দল দাবি করে, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে কোচবিহার উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায় বলেন, “জেলা জুড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ওদের কর্মীরা বিভিন্ন সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোলের জেরেই এই ঘটনা। এখানে বিজেপির কেউ যুক্ত নেই।”
তবে বিধায়কের এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। তদন্তে নেমে পুলিশ সুকুমার রায়ের ছেলে এবং তাঁর গাড়ির চালককে গ্রেফতার করে। বিধায়ক-পুত্র সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
বিজেপি অবশ্য এই ঘটনাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল বলেই দাবি করছে। তাদের অভিযোগ, নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঢাকতে এবং জেলায় ক্রমবর্ধমান বিজেপি দাপটকে রুখতে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করছে। বিজেপির দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই কোচবিহারে গেরুয়া শিবিরের প্রভাব বাড়ছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ঘোরাতেই তৃণমূল এই ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
রাজু দে-কে লক্ষ্য করে কেন গুলি চালানো হলো? এর নেপথ্যে কি সত্যিই কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করছে? নাকি বিজেপির অভিযোগ সত্যি, এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হলেন রাজু দে? বিধায়ক-পুত্রের গ্রেফতারি এই রহস্যকে আরও গভীর করেছে। কোচবিহারের রাজনীতি এখন এক নতুন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে সত্যের অনুসন্ধান কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।