বিশেষ: ১২ বছরে মাত্র ৩ টি ছবি হিট! বলিউডের অন্যতম ‘ফ্লপ’ হিরোর তালিকায় এই ছোট্ট ছেলেটি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে বোনের সঙ্গে দেখা এই ছোট্ট, হাসিখুশি ছেলেটিকে চিনতে হয়তো অনেকেরই খানিকটা সময় লাগতে পারে। তবে তিনি এখন বলিউডের এক পরিচিত মুখ, যিনি তাঁর প্রেমজীবন নিয়েও প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। কিন্তু গ্ল্যামার আর পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও, বক্স অফিস সাফল্য যেন তাঁর কাছে এক অধরা স্বপ্ন!

বলিউডে পা রাখার পর প্রায় ১২ বছর কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর মধ্যে মাত্র তিনটি ছবিই বক্স অফিসে সফলতার মুখ দেখেছে। বাকি সব ছবিই বাণিজ্যিক ভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। গত এক দশক ধরে তাঁর ঝুলিতে একটিও একক হিট ছবি নেই, যা বলিউডের মতো প্রতিযোগিতামূলক এবং তারকা-নির্ভর ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

এই তারকা বলিউডের এক নামকরা প্রযোজকের পুত্র। তাঁর সৎ বোনেরাও অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং নিজেদের সফল অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বলিউডের অন্যতম বৃহত্তম প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ ফিল্মসের হাত ধরে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল। প্রথম ছবিটি বক্স অফিসে যথেষ্ট সফল হয়েছিল, যা তাঁর কেরিয়ারের এক আশাব্যঞ্জক শুরু ছিল। কিন্তু এরপরই যেন ছন্দপতন ঘটে, প্রথম ছবির সাফল্যকে তিনি আর ধরে রাখতে পারেননি।

ক্যামেরার সামনে আসার আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরার নেপথ্যে কাজ করেছেন। ২০০৩ সাল থেকে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে বলিউডে সক্রিয় ছিলেন। নিখিল আদভানির জনপ্রিয় ও সমালোচিত ছবি ‘কাল হো না হো’-তেও তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বলিউডের ‘ভাইজান’ হিসেবে পরিচিত সুপারস্টার সালমান খান এই নায়ককে পর্দায় তাঁর হাতেখড়ির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। সালমানের ব্লকবাস্টার হিট ছবি যেমন ‘সালাম-ই-ইশক’, ‘নো এন্ট্রি’, এবং ‘ওয়ান্টেড’-এও তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমরা কার কথা বলছি। ছবির সেই ছোট্ট ছেলেটি আর কেউ নন, তিনি হলেন অর্জুন কাপুর। লাগাতার ছবিতে অভিনয় করে যাওয়া সত্ত্বেও বক্স অফিস সাফল্য এখনও তাঁর কাছে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। যদিও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্পর্ক নিয়ে প্রায়শই গণমাধ্যমে আলোচনা হয়, তাঁর পেশাগত জীবন যেন এক ভিন্ন গল্প বলে।

অর্জুন কাপুরের কেরিয়ারের এই চিত্র বলিউডের অনিশ্চিত এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের এক বাস্তব প্রতিফলন। তারকা সন্তান হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র পারিবারিক পরিচিতি দিয়ে বক্স অফিস সাফল্য ধরে রাখা যে কঠিন, তার উদাহরণ অর্জুন। প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি পারবেন ভবিষ্যতে তাঁর অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে হিট ছবির তকমা জুড়তে? নাকি এই অধরা সাফল্য তাঁর কেরিয়ারের এক স্থায়ী অধ্যায় হয়ে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে ভবিষ্যতই একমাত্র ভরসা।