OMG! সহপাঠীদের মারে নিহত দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র, পুলিশ আটক করল ২ জনকে

এক ভয়াবহ এবং হৃদয়বিদারক ঘটনায় তামিলনাড়ুর ইরোড জেলায় সহপাঠীদের হাতে মার খেয়ে প্রাণ হারিয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র। ১৭ বছর বয়সী নিহত ছাত্র আদিত্যের ‘অপরাধ’ ছিল— সে ক্লাসের মেয়েদের সাথে কথা বলেছিল! বুধবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই নাবালক অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং বৃহস্পতিবার তাদের জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং আচরণের ওপর গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

জানা গেছে, মৃত ছাত্র আদিত্য ইরোডের একটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। বুধবার সকালে আদিত্যের বাবা শিবা (৪৮) ছেলেকে স্কুলের গেটের সামনে নামিয়ে দেন। কিন্তু সেদিন আদিত্য ক্লাসে না গিয়ে তার দুই বন্ধুর সঙ্গে ক্লাস থেকে পালিয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর সন্ধ্যায় স্কুলের সামনের রাস্তায় আদিত্যকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

আদিত্যের বাবা শিবা এই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আদিত্যের বাবার অভিযোগ, তার ছেলের সাথে স্কুলেরই অন্য দুই ছাত্রের বিবাদ ছিল এবং তারাই আদিত্যকে মেরে থাকতে পারে। পুলিশও প্রাথমিকভাবে এই দিকটি খতিয়ে দেখছে। আদিত্যের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট আসার পর সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে যে, আদিত্যের বাম চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তবে গুরুতর জখম হওয়ার কোনো খবর নেই।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে আদিত্য তার বাবাকে জানিয়েছিল যে অন্য বিভাগের কিছু ছাত্র তাকে ক্লাসের মেয়েদের সাথে কথা বলতে বারণ করেছে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, ঘটনার সময় আদিত্য এবং অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আদিত্যের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন ইরোড উত্তর থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি স্কুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিংসতা এবং আচরণের ওপর গুরুতর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।