SPORTS: ইস্টবেঙ্গলের ছন্নছাড়া খেলা, ১০ জনের সুরুচি সঙ্ঘের বিরুদ্ধে আটকে গেল লাল-হলুদ

প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেলেও, দ্বিতীয় ম্যাচেই ছন্দপতন ঘটল ইস্টবেঙ্গলের। ১০ জনের সুরুচি সংঘের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হলো বিনো জর্জের দল। শুরুতে গোল করে এগিয়ে গিয়েও সেই লিড ধরে রাখতে না পারার খেসারত দিতে হলো লাল-হলুদ ব্রিগেডকে।

এদিন ইস্টবেঙ্গল আক্রমণভাগে মনোতোষ মাঝি ও জেসিন টি.কে-কে মিস করে। যার প্রভাব পড়ে দলের গোল করার ক্ষমতায়। ম্যাচের শুরুতেই নাসিব রহমানের বাঁ পায়ের ইনসুইং শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বাঁদিক থেকে সায়নের দারুণ ক্রসও আমান সিকে কাজে লাগাতে পারেননি। তবে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ডেডলক ভাঙেন পেকা গুইতে। বলরাম মান্ডির ভুল থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে গোলকিপার শুভম রায়কে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য সুরুচি সংঘ সমতা ফেরায়। মনোতোষ চাকলাদারের ভুল ট্যাকলের সুযোগ নিয়ে কারমান্না বনসল গোল করে নিউ আলিপুরের ক্লাবকে ম্যাচে ফেরান। এরপর বেদেশ্বর সিংয়ের শট ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার আদিত্য পাত্র দারুণভাবে সেভ করলেও, ফিরতি বল বারে লেগে ফিরে আসে। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর দুর্বল শট শুভম সহজেই সেভ করেন। ম্যাচের এক পর্যায়ে বাব্লু ওঁরাও লাল কার্ড দেখায় সুরুচি সংঘ ১০ জনে পরিণত হলেও, ইস্টবেঙ্গলের দুর্বল আক্রমণভাগ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।

৭০ মিনিটের পর সুরুচি সংঘ রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। কারমান্না বনসল ছাড়া তাদের কোনও খেলোয়াড়ই সেভাবে আক্রমণে উঠছিলেন না। শুভম রায় সহ সুরুচি খেলোয়াড়রা সময় নষ্ট করার চেষ্টা করেন। মাঝমাঠে ইস্টবেঙ্গলের বারবার মিস পাস তাদের সমস্যা আরও বাড়ায়। দুই উইংকে সেভাবে ব্যবহার করতে পারেনি লাল-হলুদ। বল ধরে রাখার মতো কোনো ফুটবলারও এদিন দেখা যায়নি। কোচ বিনো জর্জ একাধিক পরিবর্তন এনেও ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেননি।

ম্যাচের শেষদিকে সুরুচির সামনে আরও একটি গোলের সুযোগ আসে। তন্ময় ঘোষের চমৎকার ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারলেই গোল পেয়ে যেতে পারতো তারা। ইনজুরি টাইমে চাকু মান্ডি এবং বিক্রম প্রধানের প্রচেষ্টা সুরুচি গোলকিপার শুভম রুখে দিলে ১-১ গোলেই শেষ হয় ম্যাচ। এই ড্র ইস্টবেঙ্গলের সুপার কাপের প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও চিন্তার ভাঁজ ফেলল।