রাতে কাজ সেরে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন তৃণমূল নেতা, গাড়ি থেকে গুলি দুষ্কৃতীদের

দলের কাজ সেরে গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হলেন কোচবিহারের এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। বৃহস্পতিবার রাতে কোচবিহারের ২ নম্বর ব্লকের ঝিনাইডাঙা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নেতার নাম রাজু দে, যিনি বর্তমানে কোচবিহার-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং চকচকা অঞ্চলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি। এই ঘটনার পরপরই অভিযোগের তীর উঠেছে বিরোধী দল বিজেপির দিকে, যা নিয়ে জেলা রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

গতকাল, বৃহস্পতিবার, রাত প্রায় ১১টা নাগাদ রাজু দে ঝিনাইডাঙা এলাকা দিয়ে নিজের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, কালো রঙের একটি স্করপিও গাড়িতে করে কিছু দুষ্কৃতী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তৃণমূল নেতার ডান কাঁধে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও, তাঁর অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়।

রাজনৈতিক তরজা:
এই ঘটনার পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই হামলার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে।

তবে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেছেন, “জেলা জুড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে। ওদের কর্মীরা বিভিন্ন সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোলের জেরেই এই ঘটনা। এখানে বিজেপির কেউ যুক্ত নেই।” বিধায়ক সুকুমার রায়ের এই মন্তব্য ঘটনার পেছনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দিকে ইঙ্গিত করছে।

পুলিশি তদন্ত শুরু:
ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় থানা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত কালো রঙের স্করপিও গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাজু দে-কে গুলি করার ঘটনাটি কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।