“‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’কে পেশা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া উচিত”-দাবি ইউটিউবের

অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব এবার ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’দের পেশা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ও সরকারিভাবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে। ভিডিও প্ল্যাটফর্মটির দাবি, যারা ইউটিউব ও অন্যান্য সাইটে ভিডিও তৈরি করেন, তাদের যথাযথ স্বীকৃতি না থাকায় এই শিল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গুগল মালিকানাধীন ইউটিউব বিশ্বাস করে, সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং বৃহত্তর শিল্প খাতের অংশগ্রহণ থাকলে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সহজে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারতেন।
কেন দরকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি?
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউটিউব বোঝাতে চাইছে যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাজকে সরকারি আর্থিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা, ঋণ ও গৃহঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং বিভিন্ন সরকারি ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা উচিত। এর মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ড করার জন্য উপযুক্ত জায়গা পাওয়ার মতো বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানেও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সহায়তা পাবেন।
ইউটিউবের প্রথম গবেষণা ‘ক্রিয়েটর কনসালটেশন’
ইউটিউব প্রথমবারের মতো ‘ক্রিয়েটর কনসালটেশন’ নামে একটি বড় গবেষণা করেছে, যা একটি জাতীয় উদ্যোগ। এই গবেষণার মাধ্যমে ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে কাজ করে তাদের শিল্পে যেসব সমস্যা আছে, তা বোঝার চেষ্টা করেছে।
এই গবেষণাটি মূলত যুক্তরাজ্যের জন্য তৈরি হয়েছে, যেখানে ইউটিউব জানিয়েছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা দেশটির অর্থনীতিতে ২০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি অবদান রাখছেন। ইউটিউবের পক্ষ থেকে এটি এমন প্রথম পদক্ষেপ, যেখানে তারা দেশটির ক্রিয়েটরদের সাহায্য ও তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সরাসরি কাজ করছে।
সরকারের কাছে ইউটিউবের দাবি ও চলমান আলোচনা
ক্রিয়েটরদের মতামত থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে গুগল মালিকানাধীন ইউটিউব যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
“ক্রিয়েটরদের জন্য মন্ত্রী” নিয়োগ।
শিল্প খাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও ভালো প্রতিনিধিত্ব।
বেশি দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
অর্থায়নে সহজতর প্রবেশাধিকার।
ভিডিও চিত্রায়নের জন্য নতুন নিয়ম ও অবকাঠামো উন্নয়ন।
ইউটিউব জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যের সরকারের সঙ্গে এই সব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। প্ল্যাটফর্মটি এও বলেছে যে সরকার কিছু বিষয়ে তাদের সাহায্যও করছে। যেমন – ‘ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যান্ড টিভি স্কুল’-এর সঙ্গে যৌথভাবে ‘কনটেন্ট ইনকিউবেটর’ চালু করা হয়েছে, যেখানে ক্রিয়েটরদের দক্ষতা শেখানোর কাজ চলছে।
ইউটিউব ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের ইউটিউব ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যালিসন লোম্যাক্স বলেছেন, “প্রথমবারের মতো এ ধরনের পরামর্শ সভায় যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার প্রতিভাবান ক্রিয়েটরের এত ভালো সাড়া পাওয়ার বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরামর্শ সভার ফলাফল থেকে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এমন স্পষ্ট নীতিমালা চাইছি, যেখানে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের উন্নতি এবং অর্থায়নে সহজ প্রবেশাধিকার থাকবে। এ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব, উদ্ভাবন ও প্রতিভাকে নিশ্চিত করতে পারবেন যুক্তরাজ্যের ক্রিয়েটররা, যা আমাদের সামগ্রিক সৃজনশীল শিল্পের ভবিষ্যত বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী রপ্তানি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ইউটিউবের এই পদক্ষেপ ‘কনটেন্ট ক্রিয়েশন’কে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, যা কেবল যুক্তরাজ্যের নয়, বিশ্বজুড়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করবে।