কালো পতাকা দেখলেন সিদ্দিকুল্লা, তাঁর দলেরই লোকজন বললেন, “ধান্দাবাজ-চিটিংবাজ-তোলাবাজ”

নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রবল প্রতিবাদের মুখে পড়লেন গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সকালে মন্তেশ্বরের মালডাঙায় পৌঁছতেই তাঁর বিরুদ্ধে ফেটে পড়েন একাংশ তৃণমূল কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। হাতে কালো পতাকা, মুখে “গো ব্যাক” স্লোগান—উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এমনকি দলীয় পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তাঁকে “তোলাবাজ”, “চিটিংবাজ”, “ধান্দাবাজ” বলেও আক্রমণ করা হয়।
প্রদর্শনের নেতৃত্বে ছিলেন মন্তেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রফিকুল ইসলাম শেখ। তিনি সরাসরি বলেন,“চার বছর ধরে আমরা আশা করেছিলাম মন্ত্রীকে পেয়ে এলাকার উন্নয়ন হবে। কিন্তু উনি কেবল নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই এলাকা ব্যবহার করছেন। গম-চাল নয়, অনেকের প্রয়োজন ছিল সরকারি সার্টিফিকেট বা সহায়তা। তাও মেলেনি। আজ উনি কিছু তোলাবাজকে সঙ্গে নিয়ে ফিরেছেন, যেন দালালি করতে এসেছেন পরিযায়ী শ্রমিকের মতো।”
বিক্ষোভের মুখে প্রথমে কিছুটা চুপ থাকলেও পরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তাঁর দাবি,“এটা একটা সাজানো নাটক। ব্লক সভাপতি আহমেদ হোসেনের নির্দেশে কিছু গুন্ডা কালো পতাকা নিয়ে এসে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু করেনি। চাইলে ওদের সরিয়ে দেওয়া যেত।”মন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই ধীরে ধীরে জমতে থাকা অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে ফেটে পড়ল। একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই যখন দলীয় পঞ্চায়েত প্রধান প্রতিবাদে নামছেন, তখন প্রশ্ন উঠছে—এই ক্ষোভ কি নিছক এলাকা বা প্রকল্প কেন্দ্রীক, নাকি গভীরে রয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা?
উপসংহার:
নিজের বিধানসভায় গিয়ে এমন অপমানজনক অভিজ্ঞতা রাজ্যের কোনও মন্ত্রীর ক্ষেত্রে বিরল। এই ঘটনার জেরে শুধু সিদ্দিকুল্লা নন, অস্বস্তি বেড়েছে রাজ্য নেতৃত্বেরও। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এই প্রতিবাদ কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে।