‘হিরো’ হওয়ার নেশাতেই কি পুলিশ সেজে চলছিল নাটক? গাইঘাটা থেকে গ্রেফতার যুবক, ধোঁয়াসায় পরিবার

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হিরো’ হওয়ার নেশাতেই কি চলছিল পুলিশের নাটক? প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ কনস্টেবলের পোশাক পরে এলাকায় ঘুরে বেড়ানো, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও রিল পোস্ট করে জনপ্রিয়তা কুড়ানো গাইঘাটার সেই ‘অঙ্কিত’কে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করলো পুলিশ। ভুয়ো পুলিশ পরিচয়ের অভিযোগে গাইঘাটা থানার পুলিশ ২২ বছর বয়সী অঙ্কিত ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। তার বাড়ি গাইঘাটা থানার শিমুলপুর চৌরঙ্গী এলাকায়।
দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশের আড়ালে:
পুলিশ সূত্রে খবর, অঙ্কিত দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে পুলিশ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল এলাকার মানুষের কাছে। কখনও রাস্তার ধারে, কখনও পরিচিতদের সঙ্গে পুলিশের পোশাকে তোলা ছবি সে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করত। এই ছবি দেখে অনেকেই তাকে সত্যিকারের কনস্টেবল বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে। বিশেষ করে স্থানীয় মহিলাদের মধ্যেও তার একটি আলাদা জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছিল।
সম্প্রতি গাইঘাটা থানার পুলিশের কাছে এই বিষয়টি নিয়ে খবর আসে। জানা যায়, এলাকার এক যুবক পুলিশের পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরেই পুলিশ অভিযুক্তের গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করে।
সত্য প্রকাশ ও গ্রেফতার:
বৃহস্পতিবার তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। পুলিশের দাবি, অঙ্কিতের কথাবার্তায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর তাকে পুলিশে চাকরির বৈধ নথিপত্র দেখাতে বলা হলে, সে তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক পুলিশের পোশাক, নেম-প্লেট এবং কিছু ভুয়ো নথিও উদ্ধার করা হয়।
পরিবারও ছিল ধোঁয়াশার মধ্যে:
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, অঙ্কিত তার পরিবারকেও জানিয়েছিল যে সে পুলিশ কনস্টেবলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং বর্তমানে বিকাশ ভবনে পোস্টিং। প্রতিদিন নিয়ম করে পুলিশের পোশাক পরে সে বাড়ি থেকে বের হতো, যাতে কেউ তাকে সন্দেহ না করতে পারে। তার মা, বাবা এবং দিদিও তাকে সত্যিকারের পুলিশ অফিসার বলেই বিশ্বাস করতেন। এই ঘটনায় তার পরিবার চূড়ান্ত ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।
গাইঘাটা থানা ইতিমধ্যেই ওই যুবকের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে সে এই ছদ্মবেশ গ্রহণ করেছিল এবং এর পেছনে অন্য কোনো মতলব ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্যই এই নাটক সাজিয়েছিল কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।