ঘানায় জাতীয় সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেন মোদী, দুই দেশের মধ্যে হলো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঐতিহাসিক পঞ্চদেশ সফরের প্রথম ধাপে বুধবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায় উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন। এই প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম আফ্রিকায় দ্বিপাক্ষিক সফরে এলেন। আক্রার কোটোকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২১টি তোপধ্বনির মাধ্যমে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে। ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা স্বয়ং বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মোদীকে বরণ করে নেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতাকেই তুলে ধরে।

ঘানার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ঘানা’: এই সফরে সব থেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটে যখন ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ঘানা’ প্রদান করেন। এই সম্মানে ভূষিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী তার বক্তব্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ঘানার জাতীয় সম্মানে ভূষিত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের বিষয়। আমি প্রেসিডেন্ট মাহামা, ঘানা সরকার এবং ঘানার জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “১.৪ বিলিয়ন ভারতীয়ের পক্ষ থেকে আমি বিনীতভাবে এই সম্মান গ্রহণ করছি। এই সম্মান আমাদের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি, আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের প্রতি এবং ভারত ও ঘানার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতি উৎসর্গ করছি।”

ভারত-ঘানার ঐতিহাসিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হওয়ার পূর্বে, প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘানার মাটিতে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রেসিডেন্টের বিমানবন্দরে উপস্থিতিকে “অত্যন্ত সম্মানের” বলে অভিহিত করেন। যৌথ বিবৃতি জারির সময় তিনি বলেন, “ভারত-ঘানা বন্ধুত্বের মূলে রয়েছে আমাদের ভাগ করা মূল্যবোধ, সংগ্রাম এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য স্বপ্ন, যা অন্যান্য দেশগুলিকেও অনুপ্রাণিত করেছে।” তিনি ঘানাকে একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং পশ্চিম আফ্রিকার “আশার আলো” হিসেবে প্রশংসা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র: এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেন:

  • শিক্ষা: ঘানার জন্য ITEC এবং ICCR স্কলারশিপের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে।
  • দক্ষতা উন্নয়ন: তরুণদের বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে।
  • কৃষি: প্রেসিডেন্ট মহামার “ফিড ঘানা” কর্মসূচিতে ভারত সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
  • স্বাস্থ্যসেবা: জন ঔষধি কেন্দ্রের মাধ্যমে ঘানার নাগরিকদের সাশ্রয়ী মূল্যের এবং নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন উৎপাদনে সহযোগিতাও আলোচনায় স্থান পায়।
  • সন্ত্রাস দমন: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘানার সহযোগিতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
  • জাতিসংঘ সংস্কার: জাতিসংঘ সংস্কারের ক্ষেত্রেও দুই দেশ একই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই ঘানা সফর কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রেই নয়, বরং আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতেও সাহায্য করবে। এই সম্মাননা নিঃসন্দেহে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করল।