ভক্তদের সামনেই ইসকন মন্দিরে গুলিবর্ষণ! ভারতীয় দূতাবাসের তীব্র নিন্দা

আমেরিকার ইউটা প্রদেশের স্প্যানিশ ফর্ক এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত ইসকন রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে (ISKCON Radha Krishna Temple) একাধিকবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে। হোলি উৎসবের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই মন্দিরে গত কয়েকদিন ধরে মন্দির এবং এর আশেপাশের ভবনগুলিতে ২০ থেকে ৩০টি গুলি চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যার ফলে হাজার হাজার ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হামলার বিবরণ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবি অনলাইনে শেয়ার করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গুলিবর্ষণের ফলে মন্দিরের জটিল কারুকার্য, দেয়াল এবং অন্যান্য অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই গুলিবর্ষণের ঘটনাগুলি রাতের বেলায় ঘটেছে, যখন মন্দিরে ভক্ত এবং দর্শনার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ভারতীয় দূতাবাসের তীব্র নিন্দা
এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে ভারতীয় দূতাবাস বলেছে, “ইউটার স্প্যানিশ ফর্কে ইসকন শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সকল ভক্ত এবং সম্প্রদায়ের প্রতি দূতাবাসের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরে অব্যাহত হামলার প্রবণতা
যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এই বছরের শুরুতে, ৯ মার্চ, ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো হিলসে অবস্থিত বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দিরেও (BAPS Swaminarayan Temple) একই ধরনের আক্রমণ হয়েছিল। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, লস অ্যাঞ্জেলেসে খালিস্তান গণভোটের কয়েকদিন আগে এই ঘটনা ঘটেছিল।
গত বছরও একই ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫শে সেপ্টেম্বর রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে অবস্থিত বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দিরেও ক্ষতিসাধন করা হয়েছিল। এরপর নিউইয়র্কে অবস্থিত একটি মন্দিরেও একই ধরনের আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরগুলিতে এই ধরনের ধারাবাহিক হামলার ঘটনাগুলি স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকেই এই হামলাগুলিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে দেখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই ঘটনাগুলি ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।