“বউ পেটাতে ওস্তাদ এই অঞ্চলের স্বামীরা!” ভাইরাল মিম ঘিরে উত্তাল নেটপাড়া

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখন আলোচনার কেন্দ্রে একটি ভাইরাল মিম, যা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বরিশাল ও খুলনার পুরুষদের ‘বউ পেটাতে ওস্তাদ’ হিসেবে চিত্রিত করা এই মিমটি আপাতদৃষ্টিতে হাস্যরস সৃষ্টির চেষ্টা করলেও, এর কুরুচিপূর্ণ বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। এই মিমটি একদিকে যেমন আঞ্চলিক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত, তেমনই গার্হস্থ্য হিংসার মতো গুরুতর সামাজিক ব্যাধিকে লঘু করে দেখানোর দায়েও অভিযুক্ত হচ্ছে।
ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিমটি নেটিজেনদের মধ্যে দুটি স্পষ্ট ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। এক পক্ষ এটিকে ‘আঞ্চলিক বিভেদ সৃষ্টি’ এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যাকে হাসির খোরাক বানানো’ বলে তীব্র নিন্দা করছে। তাদের মতে, পারিবারিক সহিংসতা কোনোভাবেই রসিকতার বিষয় হতে পারে না এবং এই ধরনের মিম সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই প্রতিবাদী অংশ মিমটি ছড়িয়ে পড়াকে একটি অসুস্থ প্রবণতা হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে, নেটিজেনদের আরেকটি অংশ এই বিষয়টিকে ‘নিছকই রসিকতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের যুক্তি, এটি স্রেফ হালকা চালের একটি কৌতুক এবং এটিকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। তবে সমালোচকরা বলছেন, রসিকতার নামে কোনো অঞ্চল বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো এবং একটি সংবেদনশীল বিষয়কে উপহাস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নারী অধিকার কর্মীরা এই মিমের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, “মার খাওয়া বা মারা, কোনোটিই রসিকতার বিষয় হতে পারে না।” তারা এই ধরনের অনলাইন বিষয়বস্তুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের সক্রিয়তা এবং ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অনলাইন পেজ বিতর্কিত মিমটি সরিয়ে নিয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে গার্হস্থ্য হিংসা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ প্রকাশভঙ্গির সুযোগ নিয়ে যখন তখন যে কোনো বিষয়কে মিমের মোড়কে উপস্থাপন করার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু এই প্রবণতা কতটা নৈতিক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্কিত এই মিমটি আবারও প্রমাণ করল, ইন্টারনেটে প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তার ব্যবহার কতটা সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, তা নিয়ে আরও গভীর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।