SPORTS: ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ হবে জুলাই মাসেই, জেনে নিন কবে-কোথায়?

‘অপারেশন সিঁদুর’—এই শব্দবন্ধটি এখনও ভারতীয়দের মনে গেঁথে আছে। এই ঘটনার পর এই প্রথমবার ক্রিকেট মাঠে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত-পাকিস্তান। আগামী ২০ জুলাই ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডসের ম্যাচে দুই দেশের একাধিক প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটারদের এই লড়াই ঘিরে চাপা উত্তেজনা তুঙ্গে। ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে নামবেন যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, সুরেশ রায়না ও ইরফান পাঠান। অন্যদিকে, পাকিস্তানের হয়ে মাঠে দেখা যাবে বিতর্কিত প্রাক্তন অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদিকে। সম্প্রতি তাঁর কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এই ম্যাচের আগে উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে।
পহেলগাঁও-এর নৃশংস জঙ্গি হামলার পর আফ্রিদির কিছু মন্তব্য শুধু বিতর্কিতই নয়, রীতিমতো উস্কানিমূলক বলে মনে করা হচ্ছে। ২৬ এপ্রিলের সেই হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর পাকিস্তানের এক স্থানীয় সাংবাদিককে আফ্রিদি যা বলেন, তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর: “ওই হামলার সময় এক ঘণ্টা ধরে মানুষের মৃত্যু হল। এদিকে ৮ লক্ষ ভারতীয় সেনার একজনও সেখানে হাজির হননি। পরে এসে ওঁরা পাকিস্তানকে দোষারোপ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত নিজের দেশেই সন্ত্রাস চালায়, নিজের মানুষকে মারে, আর দোষ চাপায় পাকিস্তানের ঘাড়ে।” আফ্রিদির এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং এর তীব্র নিন্দা করেন পাকিস্তানেরই প্রাক্তন ক্রিকেটার ড্যানিশ কানেরিয়া। আফ্রিদির বয়ানের তীব্র বিরোধিতা করে কানেরিয়া বলেন, এমন মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
তবে আফ্রিদি নিজের অবস্থানে অটল থাকতে চাইছেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তান কখনও সন্ত্রাসে সমর্থন করে না। তিনি বলেন, “কোনও ধর্ম বা দেশ সন্ত্রাস সমর্থন করে না। ইসলাম আমাদের শান্তির পাঠ দেয়। পাকিস্তানও সব সময়েই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির চেষ্টা করেছে।”
আফ্রিদি আরও বলেন, “২০১৬-র টি২০ বিশ্বকাপে অধিনায়ক থাকার সময় অনেক হুমকি এসেছিল। তখনও জানতাম না আদৌ ভারত সফরে যাওয়া হবে কিনা। খেলাধুলার মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হোক, এটা ভালো ব্যাপার। ওরা আমাদের দেশে কাবাডির টিম পাঠায়, কিন্তু ক্রিকেট টিম পাঠাতে পারে না। বন্ধ করতে চাইলে পুরোপুরি করো, না হলে খেলাকে খেলার জায়গায় থাকতে দাও।” তার এই মন্তব্য একই সাথে শান্তি ও কূটনৈতিক জটিলতার এক মিশ্র বার্তা বহন করছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম খেলার ময়দানে ভারত-পাক মুখোমুখি হচ্ছে, এমনটা কিন্তু নয়। এর আগে ২৪শে মে জুনিয়র ডেভিস কাপে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ। সেবার ভারতীয় টেনিস টিমের কাছে পরাজিত হয় পাকিস্তান। সেই ম্যাচ শেষে এক পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের ভারতীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে অসভ্য আচরণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। প্রথমে করমর্দনে ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয়বার হাত মিলিয়ে আচমকা হাত টেনে নিয়ে অবমাননাকর ভঙ্গিতে তা ঝাঁকিয়ে দেন তিনি। সেই ঘটনাও ভারত-পাক খেলার মাঠে উত্তাপের পারদ কতটা চড়ায়, তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, এজবাস্টনে ভারত-পাকিস্তান কিংবদন্তিদের এই ম্যাচ ঘিরে যে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। বাইশ গজে কি শেষ পর্যন্ত খেলাটাই প্রাধান্য পাবে, নাকি আফ্রিদির বিতর্কিত মন্তব্য এবং দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন মাঠের বাইরের উত্তাপকে আরও উস্কে দেবে? এখন সেটাই দেখার।