কার্তিক মহারাজ হাইকোর্টে, FIR বাতিলের আবেদন, জরুরি শুনানির অনুমতি

বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, যিনি কার্তিক মহারাজ নামেই পরিচিত, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক চাঞ্চল্যকর FIR বাতিলের আবেদন নিয়ে আজ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। হাইকোর্ট তার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেছে, যা এই মামলাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে সকলের মনে এখন একটাই প্রশ্ন – ঠিক কী অভিযোগ ওই মহিলার, যা ১৩ বছর পর হঠাৎ করে সামনে এল এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাল?
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন এক মহিলা। কিন্তু এই অভিযোগের অস্বাভাবিকত্ব হলো, ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে ২০০৮ সালে, অর্থাৎ প্রায় ১৩ বছর আগে। এতদিন পর হঠাৎ করে কেন এই অভিযোগ দায়ের করা হলো এবং কেনই বা পুলিশ এত দেরিতে সক্রিয় হলো, তা নিয়ে আইনি মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে কার্তিক মহারাজের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের বক্তব্য, এত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগকারী কেন নীরব ছিলেন, এবং বর্তমানে এমন একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ সামনে আসার পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
হাইকোর্ট কার্তিক মহারাজের জরুরি শুনানির আবেদন মঞ্জুর করায় দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামীকালই বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে এই মামলার শুনানি হবে। আদালত এই ১৩ বছর পুরোনো অভিযোগের আইনি বৈধতা, এর পেছনের কারণ এবং বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কী পর্যবেক্ষণ দেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
কসবা আইন কলেজের গণধর্ষণ কাণ্ড এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো ঘটনা যখন রাজ্যজুড়ে শিরোনামে, ঠিক তখনই একজন সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে এমন পুরোনো অভিযোগের পুনরুত্থান রাজ্যের আইনি এবং সামাজিক পরিসরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, আদালত কক্ষ থেকে এই রহস্যময় অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য কবে সামনে আসে।