লালগোলায় যুবকের রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, স্ত্রী ও প্রেমিকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ পরিবারের, পুলিশের তদন্ত শুরু

মুর্শিদাবাদের লালগোলার নামুনদাইপুর এলাকায় এক যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবকের নাম রবিউল ইসলাম (৩০)। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। অভিযোগের আঙুল উঠেছে মৃত রবিউলের স্ত্রী এবং তার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত এক যুবকের দিকে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন রবিউলের স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিক, যা সন্দেহের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই রবিউল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ চলছিল। এই কলহের মূল কারণ ছিল রবিউলের স্ত্রীর অন্য এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হতো বলে দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। এর পরই মঙ্গলবার সকালে রবিউল ইসলামের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয় তার বাড়ি থেকে।
রবিউলের পরিবারের সদস্যরা পরিষ্কারভাবে অভিযোগ করছেন যে, তার স্ত্রী তার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে রবিউলকে খুন করে পরে তার দেহ ঝুলিয়ে দিয়েছে, যাতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। মৃতের পরিবারের এক আত্মীয় এক মর্মস্পর্শী বক্তব্যে বলেন, “আমার শ্যালককে মেরে ফেলা হয়েছে। ওর বৌ-এর প্রেম ছিল অন্যের সঙ্গে। মেয়েটা ওকে মারধর করে। এই নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। আজও গণ্ডগোল হচ্ছিল। তখনই এই ঘটনা।”
মৃতের এক প্রতিবেশী জানান, “ছেলেটার উপর রোজ অত্যাচার হয়। ছেলেটাকে মেয়েটা মারে। আমার বাড়ির পাশেই বাড়ি। রোজ গণ্ডগোলের খবর পাই। আজও আওয়াজ পেয়েছিলাম। পরে দেখি ছেলেটা পড়ে আছে। আর মেয়েটা চলে গেছে।” এই সাক্ষ্যগুলো পরিবারের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লালগোলা থানার পুলিশ। তারা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এই রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই রবিউলের স্ত্রী এবং তার প্রেমিক পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতি পুলিশের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। লালগোলা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পলাতক স্ত্রী ও তার প্রেমিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার পেছনের আসল সত্য উদঘাটনের জন্য সবরকম প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনা নামুনদাইপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, এবং এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার বিচার চাইছেন।