কসবা গণধর্ষণ, আদালতের শুনানিতে বিস্ফোরক তথ্য, নির্যাতিতাকে ‘সুস্থ করে’ ফের অত্যাচারে ইনহেলার!

কসবা আইন কলেজ গণধর্ষণ কাণ্ডে পুলিশের হেফাজতে থাকা তিন মূল অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার পর চাঞ্চল্যকর এক মোড় নিয়েছে মামলার তদন্ত। শুনানির শুরুতেই এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে – অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র এবং তার দুই অনুগামীর আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের জন্য জামিনের আবেদনই করেননি। বরং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তারা বেশ কিছু বিস্ফোরক দাবি এবং প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

আদালতে দাঁড়িয়ে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা জানান, তারা এই মুহূর্তে জামিন চাইছেন না কারণ তারা চান তদন্ত সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এগোবে। একই সাথে তারা জেরার সময় আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার আবেদন জানান এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেন।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও পাল্টা প্রশ্ন:

তবে মূল বোমাটি ফাটান যখন তারা আদালতে দাবি করেন, “এটা একটি বড় ষড়যন্ত্র। FIR পড়লেই স্পষ্ট বোঝা যায়, ঘটনা গণধর্ষণের নয়।” তারা নির্যাতিতার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কিনা, তা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে কিনা, এবং অভিযুক্তদের সবার কল ডিটেইলস নেওয়া হয়েছে কিনা, সেই বিষয়েও পুলিশকে প্রশ্ন করেন। তাদের ইঙ্গিত, মামলার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

সরকারি আইনজীবীর চাঞ্চল্যকর দাবি: ‘ইনহেলার’ প্রসঙ্গ!

তবে সরকারি পক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর সৌরিন ঘোষাল পাল্টা সওয়াল জবাবে এক চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। তিনি আদালতে বলেন, “তদন্ত চলাকালীন সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা আবার ঘটনাস্থলে যাব। মেডিক্যাল, ডিজিটাল এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে এবং সবকিছুতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলছে।”

এরপরই তিনি ‘ইনহেলার’ প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন, যা আদালত কক্ষে এক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধতা নিয়ে আসে। সৌরিন ঘোষাল বলেন, “যখন নির্যাতিতার উপর প্রথম দফার অত্যাচার চলছিল, তখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তখন তিন অভিযুক্তের মধ্যে একজন পাশের দোকান থেকে ইনহেলার নিয়ে এসে তাঁকে দেন। উদ্দেশ্য ছিল, তাঁকে সুস্থ করে আবারও অত্যাচার চালানো। এটা অত্যাচারের জন্য মরিয়া মানসিকতার পরিচয়।”

পুলিশও আদালতে দাবি করেছে, ইনহেলার আনা হয়েছিল নির্যাতিতাকে অত্যাচারের উপযোগী অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। শুধু তাই নয়, ওই রাতে নির্যাতনের সময় নির্যাতিতার শারীরিক পরিস্থিতি কতটা খারাপ ছিল, তাও বিস্তারিত তুলে ধরা হয় আদালতে।

নিরাপত্তারক্ষীর আইনজীবী ও পুলিশের আবেদন:

ঘটনায় ধৃত কলেজের নিরাপত্তারক্ষীর আইনজীবীও জামিনের আবেদন করেননি। তিনি আদালতে তার মক্কেলের সীমিত ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন এবং আদালত যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে রায় দেয় সেই আবেদন জানিয়েছেন।

পুলিশের তরফ থেকে তিন অভিযুক্ত ও নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে তদন্তের স্বার্থে আরও দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত সমস্ত যুক্তি খতিয়ে দেখে আগামী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

এই মামলার পরতে পরতে যেভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে, তাতে এটি শুধু একটি আইনি লড়াই নয়, বরং এক সামাজিক ব্যাধি এবং তার ভয়াবহ পরিণতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, পুলিশের আবেদন মেনে আদালত কতদিনের হেফাজত মঞ্জুর করে এবং পরবর্তী তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, যা রাজ্যের বিচারব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর গভীর প্রভাব ফেলবে।