OMG! বিমা এবং পলিউশন ফেল, সেই গাড়িতেই ঘুরছেন পুরসভার কমিশনার, বিতর্ক তুঙ্গে

এ যেন উলটপুরাণ! সাধারণ নাগরিকদের জন্য কঠোর নিয়ম, অথচ জনসেবার নামে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে খোদ দুর্গাপুর পুরসভারই ফিটনেস ও বিমাহীন বেআইনি গাড়ি। শুধু কমিশনারের অফিসিয়াল গাড়ি নয়, পুরসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন, এমনকি মানুষের জীবন রক্ষাকারী অ্যাম্বুলেন্সও নাকি চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্র নিয়ে। এমন ভয়ঙ্কর উদাসীনতায় শহরজুড়ে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও জননিরাপত্তার প্রশ্ন।

কমিশনারের স্করপিও: বেআইনি পথচলার বিস্ফোরক অভিযোগ
অভিযোগের তির সরাসরি দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার আবুল কামাল আজাদ ইসলামের দিকে। জানা গেছে, তিনি যে স্করপিও গাড়িটি (নম্বর উল্লেখ করে, তবে এখানে বাদ দেওয়া হলো সংবেদনশীলতার জন্য) ব্যবহার করেন, সেটির বিমার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে এই বছরের ১৬ এপ্রিল এবং পলিউশন সার্টিফিকেট ফেল করেছে ২২ এপ্রিল। অথচ, এর পরেও সেই বেআইনি গাড়িটি নিয়েই প্রতিদিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন শহরের প্রধান প্রশাসনিক কর্তা।

বিষয়টি কেবল কমিশনারের গাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়। সূত্রের খবর, পুরসভার একটি অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস সার্টিফিকেট ২০১৩ সালের ১৯ অক্টোবর থেকেই ফেল হয়ে আছে, অথচ সেই অ্যাম্বুলেন্স আজও শহরের রাস্তায় রোগী নিয়ে ছুটছে! এছাড়াও, পুরসভার একাধিক আধিকারিকের গাড়ি, জলের ট্যাঙ্কার—সবেরই নাকি ফিটনেস, বিমা এবং পলিউশন সার্টিফিকেট অনুপস্থিত। এমনকি কিছু গাড়ি তো নম্বর প্লেট ছাড়াই বেপরোয়া গতিতে চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি বলে তাঁদের ক্ষোভ।

চালক-কর্মীদের অসহায় আর্তনাদ: “ভরসা শুধু ভগবান!”
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ পুরসভার গাড়ির চালকদের একাংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চালক জানান, “একাধিকবার পুরসভার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমাদের জীবন হাতে নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে একমাত্র ভরসা ভগবানই!” তাদের এই অসহায় মন্তব্য প্রশাসনের চরম গাফিলতিকেই প্রকট করে তুলছে।

অবশেষে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য রাখি তিওয়ারি। তিনি বলেন, “কমিশনারের গাড়ি-সহ আরও কয়েকটি গাড়ি একটি এজেন্সির মারফত নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই সমস্ত কাগজপত্র আপডেট করা হবে। পুরসভার বাকি যে সব গাড়ির ফিটনেস ফেল হয়েছে, সেগুলিও দ্রুত ঠিক করা হবে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে মহকুমার অতিরিক্ত পরিবহণ আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছি।”

দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার আবুল কামাল আজাদ ইসলামও জানিয়েছেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে, এই ‘শীঘ্রই’ শব্দটির উপর শহরের মানুষ কতটা ভরসা রাখবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কেননা, মাসের পর মাস ধরে এই বেআইনি যানগুলো বিপদ ডেকে আনছে শহরের রাস্তায়। প্রশ্ন উঠছে, যে সংস্থা নাগরিকদের শৃঙ্খলা শেখায়, তারাই কি নিজেরা আইনের তোয়াক্কা করবে না? দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে, ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।