কসবা কাণ্ডের আঁচেই নতুন বিতর্ক, কার্তিক মহারাজ এবার কলকাতা হাইকোর্টে, ১৩ বছর পুরোনো অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন!

একদিকে যখন কসবা আইন কলেজের গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান কার্তিক মহারাজ। তার বিরুদ্ধে এক মহিলা ১৩ বছর আগের ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার ভিত্তিতে হঠাৎ করেই পুলিশ নোটিস পাঠাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে FIR খারিজের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কার্তিক মহারাজ নিজেই, এবং আগামীকাল বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে এই মামলার শুনানি হবে।

১৩ বছর পর হঠাৎ অভিযোগ: উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

কার্তিক মহারাজের আইনজীবীদের অভিযোগ, ২০০৮ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে ২০২৩ সালে FIR দায়ের করা হয়েছে, এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এখন নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এত বছর পর হঠাৎ করে কেন এই অভিযোগ দায়ের করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এই দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগকারী কেন নীরব ছিলেন, এবং ঠিক এই মুহূর্তে কেন অভিযোগকে সক্রিয় করা হলো, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আদালতের দ্বারস্থ কার্তিক মহারাজ:

এই অপ্রত্যাশিত আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে কার্তিক মহারাজ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার আবেদন, এই FIR খারিজ করা হোক, কারণ ১৩ বছর আগের একটি ভিত্তিহীন অভিযোগকে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার পক্ষের দাবি, এই দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পর হঠাৎ করে এমন অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

কসবা কাণ্ডের আবহে নতুন বিতর্কের যোগ:

কসবা আইন কলেজের গণধর্ষণ কাণ্ড এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার মতো স্পর্শকাতর ঘটনা যখন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, ঠিক তখনই কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে এই ১৩ বছরের পুরোনো অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগের সময়কাল যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী।

যদিও অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি এবং কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে এই ঘটনার রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাব পড়তে বাধ্য। একটি প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ, তাও এত বছর পর, নিঃসন্দেহে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে।

হাইকোর্টে আগামীকালকের শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আদালত এই ১৩ বছরের পুরোনো অভিযোগের আইনি বৈধতা এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে কী পর্যবেক্ষণ দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।