এয়ার ইন্ডিয়া AI-171 দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট আসছে ‘শেষ মুহূর্তের’ রহস্য কি উন্মোচিত হবে?

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 ফ্লাইটের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার উনিশ দিন পর, অবশেষে সেই প্রতীক্ষিত ক্ষণ আসন্ন। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে চলেছে বলে সূত্র মারফৎ জানা গেছে। এই রিপোর্টেই উড়ানের শেষ মুহূর্তের সময়কাল, ককপিটের কথোপকথন, পাইলটদের নিয়ন্ত্রণ ইনপুট এবং বিমানের সিস্টেম ডেটার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি ভেঙে পড়েছিল, যার জেরে ২৪১ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইতিমধ্যেই যাত্রীদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু দুর্ঘটনার কারণ এখনও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। বিশ্বজুড়ে বিমান পরিবহন শিল্প এখন ভারতীয় তদন্তকারীদের এই প্রাথমিক রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে।
কী থাকছে প্রাথমিক রিপোর্টে?
সিএনবিসি-টিভি১৮-কে দেওয়া একটি প্রতিবেদন থেকে সূত্র মারফৎ জানা গেছে, আসন্ন এই প্রাথমিক রিপোর্টে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার সম্ভাবনা কম। তবে, এটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরবে, যা দুর্ঘটনার চিত্র পরিষ্কার করতে সহায়ক হবে। এই বিষয়গুলির মধ্যে থাকবে:
বিমানের শেষ মুহূর্তের সময়রেখা: দুর্ঘটনার ঠিক আগে কী ঘটেছিল, তার একটি ক্রমানুক্রমিক বিবরণ।
রেকর্ড করা ককপিটের কথোপকথন: পাইলটদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের কথাবার্তা এবং নির্দেশাবলী।
পাইলটদের নিয়ন্ত্রণ ইনপুট: দুর্ঘটনার সময় পাইলটরা বিমানকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই ডেটা।
বিমানের সিস্টেম ডেটা: বিমানের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমগুলি কিভাবে কাজ করছিল বা কোনো ত্রুটি দেখা গিয়েছিল কিনা।
আবহাওয়া এবং এটিসি যোগাযোগ: দুর্ঘটনার সময়কার আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে বিমানের যোগাযোগ।
বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও পাইলটের অভিজ্ঞতা:
সরকারি তথ্যে আরও জানানো হয়েছে যে, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এই বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি জুন ২০২২ সালে একটি বড় রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করেছিল এবং পরবর্তীতে আগামী ডিসেম্বর মাসে আরেকটি নিয়মিত চেকআপ হওয়ার কথা ছিল। বিমানের ডানদিকের ইঞ্জিনটি গত মার্চ মাসে ওভারহোল করা হয়েছিল এবং বাঁদিকের ইঞ্জিনটি এপ্রিল মাসে নির্মাতাদের প্রোটোকল অনুযায়ী চেক করা হয়েছিল।
সর্বোপরি, বিমানের ক্যাপ্টেন সবরওয়ালের ১০,০০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা ছিল, যা তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতারই পরিচয় বহন করে। এত অভিজ্ঞ পাইলট এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের পরেও এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কিভাবে ঘটল, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ডিজিসিএ’র পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ:
ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনার পর ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) ভারতে পরিচালিত অন্যান্য ড্রিমলাইনারগুলির নিরাপত্তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। বিমানটির ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) থেকে প্রাপ্ত তথ্য এই তদন্তের মূল ভিত্তি হবে। বিশ্বজুড়ে বিমান বিশেষজ্ঞরা এখন ভারতীয় তদন্তকারীদের এই ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, যা হয়তো বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন কিছু দিকনির্দেশনা দিতে পারে। এই রিপোর্টই নির্ধারণ করবে দুর্ঘটনার মূল কারণ এবং ভবিষ্যতের সুরক্ষার পদক্ষেপ।