শুভেন্দুর ‘বিশেষ’ চিকিৎসক দিবসের বার্তা, কেবল ডাক্তার নন, গোটা স্বাস্থ্য পরিবারকে কুর্নিশ!

প্রতি বছরই পয়লা জুলাই আসে চিকিৎসক দিবসের প্রথাগত শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে। কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সেই চিরাচরিত ধারা থেকে খানিক সরে এসে এক ভিন্ন সুর বাঁধলেন। তার ‘এক্স’ (সাবেক ট্যুইটার) বার্তায় তিনি কেবল চিকিৎসকদের নয়, বরং গোটা স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সকলকে শ্রদ্ধা জানালেন, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে শুভেন্দুবাবু লিখেছেন, “জাতীয় চিকিৎসক দিবসে আপনাদের সেবা ও যত্নের জন্য সকল চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।” এই বাক্যটিতে বিশেষভাবে লক্ষণীয়, তিনি কেবল ‘চিকিৎসক’ শব্দটিতে থেমে থাকেননি। বরং, নার্স এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের অন্যান্য পেশাদারদেরও এই কৃতজ্ঞতার ভাগীদার করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন স্বাস্থ্য পরিষেবা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তখন এই সামগ্রিক স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
স্মরণ করা যাক, ১৯৯১ সাল থেকে ভারত প্রতি বছর এই দিনে জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালন করে আসছে। এই দিনটি কিংবদন্তি চিকিৎসক, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীর (১ জুলাই) স্মরণে উৎসর্গীকৃত। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় (১ জুলাই ১৮৮২ – ১ জুলাই ১৯৬২) ছিলেন চিকিৎসা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি FRCS এবং MRCP ডিগ্রিধারী একজন আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক ছিলেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সমাজসেবায় তার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৬১ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই বার্তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয়। এর পেছনে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতের সকল স্তরের কর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সচেতন প্রয়াস। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান আরও বেশি করে সামনে এসেছে। এই বার্তা কি ভবিষ্যতের রাজনীতিতে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে? আপাতত উত্তর অজানা হলেও, এই ‘বিশেষ’ চিকিৎসক দিবসের শুভেচ্ছা বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।