আর লুকোচুরি নয়! ইউনূসকে হঠাতে এবার আসরে চিন? এমনটাই ইঙ্গিত BNP নেতার

আর গোপন নয়, হাসিনার দেশ ছাড়ার পর থেকেই চিন ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে এবার সরাসরি মন্তব্য করলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সদ্য পাঁচ দিনের চিন সফর সেরে দেশে ফিরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

সময় টিভির এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, “চিন নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিস্তা প্রকল্প নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। মায়ানমার ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও চিন আগ্রহ দেখিয়েছে এবং হস্তক্ষেপে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।”

বহুদিন ধরেই বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে সরব বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দল। এই পটভূমিতেই বিএনপির শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিন যদি সত্যিই বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তাহলে বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে। এমনও প্রশ্ন উঠছে—চিন কি এবার খালেদা জিয়ার দলকে সামনে রেখে নোবেলজয়ী ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে সরকারের উপরে চাপ তৈরি করতে চাইছে? নাকি অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত তারা?

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফখরুল জানিয়েছেন যে চিন বাংলাদেশের রাজনীতি এবং নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে ‘ইতিবাচক ও উৎসাহী’। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় চিনের মনোভাব কী, এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা চিনের দিক থেকে খুবই ইতিবাচক বার্তা পেয়েছি।” তবে এই নিয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য করে জলঘোলা করতে চাননি তিনি।

চিনের এই কৌশলগত আগ্রহের ইঙ্গিত যথেষ্ট স্পষ্ট। বাংলাদেশের রাজনীতির আগামী দিনে তাদের সক্রিয় ভূমিকা কতদূর গড়াবে, এখন সেদিকেই নজর পর্যবেক্ষকদের।