৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধাকে পহেলগাঁওয়ের হোটেলে ধর্ষণ স্থানীয় কাশ্মীরির, মামলার শুনানিতে কী বললেন বিচারক?

মহারাষ্ট্রের ৭০ বছর বয়সি এক মহিলা পর্যটককে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কাশ্মীরি যুবকের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলা আদালত। পহেলগাঁওয়ের এক হোটেলে ঘটেছিল নৃশংস ঘটনাটি। অভিযুক্তের জামিন নামঞ্জুর করে আদালত কড়া ভাষায় মন্তব্য করে জানায়—এটা নিছক কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সমাজের গভীর অবক্ষয় ও অসুস্থ মানসিকতার প্রতিফলন।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল, দক্ষিণ কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাঁওয়ের একটি হোটেলে। পরিবারসহ বেড়াতে এসেছিলেন বৃদ্ধা। সেখানেই অভিযুক্ত জুবেইর আহমেদ বেআইনিভাবে ঢুকে পড়ে তাঁর কক্ষে। অভিযোগ, কম্বল দিয়ে মুখ চেপে ধরার পর বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে সে। শারীরিক নির্যাতনের পর তাকে জখম করে জানালা দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। ঘটনার পর নির্যাতিতা চলাফেরার ক্ষমতাও হারান বলে জানায় পুলিশ।
২৭ জুন অনন্তনাগের প্রিন্সিপাল সেশনস জজ তাহির খুরশিদ রায়না অভিযুক্তের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “এই ঘটনা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো। একজন বৃদ্ধা, যিনি কাশ্মীরের সৌন্দর্য দেখতে এসেছিলেন, তাঁর জীবনে রয়ে গেল ভয়াবহ এক স্মৃতি। এমন বর্বরতা কোনওভাবে মেনে নেওয়া যায় না।”
আদালত আরও জানায়, ফরেনসিক রিপোর্ট, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং নির্যাতিতার বিবৃতি—all মিলিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। চার্জশিট এখনও পেশ হয়নি, তদন্ত চলছে, এমন অবস্থায় জামিন দেওয়ার কোনও যুক্তিই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযুক্তের দাবি ছিল, তিনি নির্দোষ এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বিচারকের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে জামিন দেওয়া যায় না।
আদালতের মন্তব্য, “এই ঘটনাটি কেবল আইনি লঙ্ঘন নয়, এটি আমাদের সমাজের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। আমাদের লজ্জিত করে দেওয়ার মতো ঘটনা। সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট হওয়া উচিত ছিল।”
এই রায়ে শুধু এক নির্যাতিতার জন্য নয়, গোটা সমাজের মূল্যবোধ রক্ষায়ও এক শক্তিশালী বার্তা দিল আদালত।