ভয়াবহ! হাসপাতালে ঢুকে প্রেমিকার গলা কাটল প্রেমিক, দাঁড়িয়ে দেখল ডাক্তার-রোগীরা!

কারও হাতে মোবাইল, কেউ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে কাঁপছেন। কারও চোখে বিস্ময়, কেউ আবার সাহস না করে দূর থেকেই তাকিয়ে রয়েছেন। আর তখনই এক নার্সিং পড়ুয়ার গলায় গভীর ভাবে ঢুকে যাচ্ছে ছুরির ফল। রক্তাক্ত শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এমন নির্মম দৃশ্যের সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুর জেলা হাসপাতাল। দিনদুপুরে, প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
নিহত তরুণীর নাম সন্ধ্যা চৌধুরী। নার্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি ওই জেলা হাসপাতালেই। সোমবার ছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই। কাজে ব্যস্ত ছিলেন সন্ধ্যা, যদিও প্রেমিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক টানাপোড়েন তাঁর মনকে ভারাক্রান্ত করে রেখেছিল—জানিয়েছেন তাঁর সহপাঠীরা।
সন্ধ্যার প্রেমিক অভিষেক কোষ্ঠী, মধ্যপ্রদেশেরই বাসিন্দা। দু’বছরের সম্পর্ক তাঁদের মধ্যে। তবে সেই সম্পর্কে ছিল না স্থিতি বা শান্তি। প্রায়শই ঝগড়া-অশান্তি লেগেই থাকত। সোমবারও সেই তালিকায় নতুন একটি অধ্যায় যোগ হয়। হাসপাতালে সন্ধ্যা কাজ করছিলেন এমার্জেন্সি বিভাগে, তখনই সেখানে এসে হাজির হয় অভিষেক। কথা বলতে চায়। দেখা করতে যান সন্ধ্যা। কিন্তু মুহূর্তেই পরিস্থিতি ঘোরাল মোড় নেয়।
কোনও কথা না বলেই প্রেমিক ছুরি চালাতে শুরু করে সন্ধ্যার উপর। প্রথমে একের পর এক আঘাত। তারপর সে ঝাঁপিয়ে পড়ে সন্ধ্যার গলার উপর। গলায় ছুরি বসিয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁকে খুন করে অভিষেক। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গোটা হাসপাতাল। প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউ ভিডিও করেন, কেউ চেঁচিয়ে ওঠেন, কিন্তু কেউই সময়মতো এগিয়ে আসতে পারেননি।
জেলা পুলিশ সুপার জানান, “দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। প্রাথমিক তদন্তে বোঝা যাচ্ছে, পরিকল্পিত ভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে অভিযুক্ত। ছুরি দিয়ে সন্ধ্যাকে খুন করার পর আত্মহত্যার চেষ্টাও করে সে। কিন্তু ব্যর্থ হয় এবং পালিয়ে যায়।”
পুলিশ পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অভিষেককে গ্রেফতার করে। আপাতত সে হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব প্রত্যক্ষদর্শীরা ভিডিও তুলেছেন, সেই ফুটেজ মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে আদালতে পেশ করা হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আবারও সামনে এল প্রেমঘটিত সম্পর্কে মানসিক ভারসাম্য হারানোর ভয়াবহ পরিণতি এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গাতেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।