OMG! বিশ্বে প্রথমবার রোবটের ফুটবল ম্যাচ, মাঠে আহত ২ খেলোয়াড়, দেখেনিন ভিডিও

ফুটবল মাঠে মানুষ নয়, এবার একে অপরের বিপক্ষে লড়াই করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত হিউম্যানয়েড রোবটরা! বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো চীনের বেইজিংয়ে। তবে এই ঐতিহাসিক ম্যাচে কিছু নাটকীয় মুহূর্তও দেখা গেছে—মাঝেমধ্যেই দুইটি রোবটকে ‘অজ্ঞান’ হয়ে পড়ে যেতে দেখা যায় এবং এদের স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে হয়!

গত সপ্তাহান্তে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ ইভেন্টে চারটি রোবট দল একে অপরের বিরুদ্ধে ফুটবল খেলেছে। প্রতিটি দলে ছিল তিনটি করে রোবট, আর খেলাটি পরিচালিত হয়েছে সম্পূর্ণভাবে AI-এর সাহায্যে, যেখানে মানুষের কোনো সাহায্য বা তদারকি ছিল না বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

নির্মাতারা দাবি করেছেন, এসব রোবটে অত্যাধুনিক ‘ভিজুয়াল সেন্সর’ থাকায় এরা বল চিনতে এবং মাঠে সঠিকভাবে চলাফেরা করতে সক্ষম। এমনকি, পড়ে গেলে এরা নিজেদের ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে নিজেই উঠে দাঁড়াতে পারে। তবে মাঠের খেলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কিছু রোবট পড়ে যাওয়ার পর আর নিজে থেকে উঠতে পারেনি, ফলে মানব অপারেটরদের স্ট্রেচারে করে তাদের মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

এছাড়াও, কিছু রোবটকে বল মারতে বা কিক দিতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে দেখা গেছে। খেলার সময় খেলোয়াড় রোবটদের মধ্যে ধীরে ধীরে ধাক্কা লাগার ঘটনাও অনেকবার ঘটেছে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, চীনে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এর এক ঝলক হিসেবেই এই আয়োজনকে দেখা হচ্ছে। এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে প্রথমবারের মতো দেশটিতে হিউম্যানয়েড রোবট বক্সিং ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়।

AI-চালিত হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চীন তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করছে। ম্যারাথন, বক্সিং এবং ফুটবলের মতো খেলাধুলাকে তারা রোবটের জন্য একটি বাস্তব পরীক্ষা ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যা এদের অ্যালগরিদম ও হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার সিস্টেম দ্রুত উন্নত করতে সাহায্য করবে।

রোবট খেলোয়াড় সরবরাহকারী কোম্পানি ‘বুস্টার রোবোটিকস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও চেং হাও বলেছেন, খেলাধুলার প্রতিযোগিতা বিভিন্ন হিউম্যানয়েড রোবটের জন্য আদর্শ পরীক্ষা ক্ষেত্র। তিনি আরও বলেন, হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারে নিরাপত্তাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। “ভবিষ্যতে আমরা এমন ব্যবস্থা করতে পারি যাতে রোবটরা মানুষের সঙ্গে ফুটবল খেলতে পারে। এজন্য আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, এসব রোবট পুরোপুরিভাবে নিরাপদ।”

চেং হাও জানিয়েছেন, এই খেলায় অংশ নেওয়া চারটি ইউনিভার্সিটির সব দলের জন্য হার্ডওয়্যার সরবরাহ করেছে ‘বুস্টার রোবোটিকস’। প্রতিটি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব গবেষকরা এসব রোবটের জন্য এমন সফটওয়্যার তৈরি করেছেন, যা রোবটকে বল চিনতে, সিদ্ধান্ত নিতে, কোথায় দাঁড়াতে হবে তা নির্ধারণে এবং কীভাবে বল পাস করতে হবে তা শিখিয়েছে। এছাড়াও, রোবটের গতি, বল মারার শক্তি ও বল কোন দিকে যাবে—এসব বিষয়ও এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখিয়েছেন গবেষকরা।

এই ফুটবল ম্যাচে জয়ী হয়েছে ‘সিনহুয়া ইউনিভার্সিটি’র ‘টিএইচইউ রোবোটিকস’ নামের দল। ‘চায়না অ্যাগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি’র ‘মাউন্টেইন সি’ দলকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।

বিশ্বের অন্যান্য বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানিও মানুষের মতো বুদ্ধিমান AI রোবট তৈরিতে ফুটবলকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। ২০২৩ সালে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের AI স্টার্টআপ ডিপমাইন্ড (DeepMind) ছোট ছোট ফুটবল খেলার রোবট দেখিয়েছিল। এই পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের খেলাধুলায় রোবটদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়তে চলেছে।