কসবাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকায় নজর রাখবে বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম, নিশানা রাজ্য সরকারকেও

কসবার আইন কলেজে ঘটে যাওয়া ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে রাজ্যে এসে পৌঁছাল বিজেপির চার সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। রবিবার কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন দলের সদস্যরা। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নড্ডার নির্দেশে গঠিত এই অনুসন্ধান দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাংসদ ও প্রাক্তন পুলিশ কর্তা সত্যপাল সিং। দলের অন্য তিন সদস্য হলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ বিপ্লব দেব, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মীনাক্ষী লেখী এবং রাজ্যসভার সাংসদ মননকুমার মিশ্র।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সত্যপাল সিং জানান, “আমরা নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করব। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। আশা করি মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সমস্ত জায়গায় যাওয়ার অনুমতি দেবেন।”

তবে, অনুসন্ধানকারী দলের অভিযোগের তির রাজ্যের শাসকদলের দিকে। তাঁরা বলেন, “এই রাজ্যে যখন শাসকদল চায়, তখন অন্য রাজ্যে তারা তদন্ত দল পাঠায়, যেমন হাথরাস বা পহেলগাঁও। কিন্তু নিজেদের রাজ্যে অন্য দলের তদন্ত টিমকে সহযোগিতা করে না। মুখ্যসচিব বা ডিজিপি দেখা করেন না। এটা গণতন্ত্রবিরোধী আচরণ।”

এদিন বিজেপি প্রতিনিধি দলটি লালবাজারে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখান থেকে তাঁদের কসবার আইন কলেজে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কলেজের গভর্নিং বডির সঙ্গেও দেখা করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। তবে, দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলেজে প্রবেশের কোনো অনুমতি মেলেনি।

এদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেই অনুমতি না মেলায়, সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছে বিজেপির এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম।

উল্লেখ্য, কসবা কাণ্ডকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক প্রভাবশালী নেতা। তার বিরুদ্ধে কলেজে ভর্তি করিয়ে টাকা তোলা থেকে শুরু করে যৌন হেনস্থাসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলির তদন্তেই নেমেছে বিজেপির উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দল। তাদের এই সফর এবং রাজ্যের অসহযোগিতা নিয়ে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি আরও সরগরম হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।