৩০ টাকার কমেও ইউকো ব্যাঙ্কের শেয়ারে লাভের হাতছানি? বিনিয়োগকারীদের নজর এখন এই সরকারি ব্যাঙ্কের দিকে

শেয়ার বাজারে ব্যাঙ্কের শেয়ার বরাবরই বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় থাকে। গত কয়েক বছরে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলো বিনিয়োগকারীদের ভালো রিটার্ন দিয়েছে। আর এই প্রবণতার মধ্যেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইউকো ব্যাঙ্ক (UCO Bank)। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক বিনিয়োগে এই ব্যাঙ্কের শেয়ার এখনও লাভের মুখ দেখাতে সক্ষম।

ইউকো ব্যাঙ্কের শেয়ারের চড়াই-উতরাই
গত পাঁচ বছরে ইউকো ব্যাঙ্কের শেয়ার প্রায় ১২৯% রিটার্ন দিয়ে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে, গত এক বছরে এই সরকারি ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম ৪৬% কমে ৩০ টাকারও নিচে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ৫২ সপ্তাহে ইউকো ব্যাঙ্কের শেয়ার সর্বোচ্চ ৬০.৬৮ টাকায় পৌঁছেছিল, আর সর্বনিম্ন নেমে এসেছিল ২৬.৮১ টাকায়। বর্তমানে শেয়ারের দাম ২৯.৯৬ টাকা, অর্থাৎ ৩০ টাকারও কম দামে লেনদেন হচ্ছে, যা ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি।

গত ২৪ জুন, ইউকো ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম ছিল ২৯.৭৫ টাকা।

চতুর্থ ত্রৈমাসিকের ফলাফল: আশার আলো?
সম্প্রতি ইউকো ব্যাঙ্ক তাদের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ব্যবসা, মুনাফা এবং সম্পদের মানের দিক থেকে ব্যাঙ্কটি বেশ শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছেছে। গত এক বছরে ব্যাঙ্কের মোট ব্যবসা ১৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৫,১৩,৫২৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কটি মোট ৬৫২ কোটি টাকার মুনাফা লাভ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৫২৬ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ২৪% বেশি। একই সময়ে, ব্যাঙ্কের অপারেশনস মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯৯ কোটি টাকা।

পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলির বর্তমান পরিস্থিতি ও ইউকো ব্যাঙ্কের সম্ভাবনা
যদিও ইউকো ব্যাঙ্ক সহ সমস্ত পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক (PSB) বা সরকারি খাতের ব্যাঙ্ক গত এক বছরে শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাসের সাক্ষী হয়েছে, ইউকো ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ৫ বছরের ১২৯% রিটার্নের পরিসংখ্যানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে ৩০ টাকারও কম দামে লেনদেন হওয়া ইউকো ব্যাঙ্কের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। তবে, স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ, তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিসাপেক্ষ। বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।