মেট্রো দুর্ভোগের সোমবার, জল জমার পর এবার আত্মহত্যার চেষ্টা, সপ্তাহের শুরুতেই নাকাল নিত্যযাত্রীরা

সোমবার সকাল থেকেই চরম দুর্ভোগের শিকার হলেন কলকাতার মেট্রো যাত্রীরা। রাতভর অবিরাম বৃষ্টির জেরে পাতালপথে জল জমে আংশিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পরেই বেলগাছিয়া স্টেশনে এক ব্যক্তির মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় ফের থমকে যায় পরিষেবা। সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিনে এই জোড়া ধাক্কায় চূড়ান্ত ভোগান্তির মুখে পড়েন হাজার হাজার অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
পাতালপথে জলের বিভ্রাট: সপ্তাহের শুরুতেই ভোগান্তি
রবিবার রাতের প্রবল বৃষ্টি শহরের বিভিন্ন এলাকাকে জলমগ্ন করে তোলে। সেই প্রভাব থেকে বাদ যায়নি পাতালপথও। জানা গেছে, চাঁদনি চক এবং সেন্ট্রাল স্টেশনের মধ্যবর্তী আপ লাইনে জল জমে যায়। এর ফলে, যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সকাল ৯টা ৫ মিনিট থেকে এই অংশে মেট্রো চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ময়দান থেকে কবি সুভাষ এবং গিরিশ পার্ক থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত সীমিত পরিষেবায় ট্রেন চালানো হয়। এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে বহু যাত্রী স্টেশনে আটকা পড়েন এবং বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। মেট্রো কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পাম্পের সাহায্যে জল সরানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট নাগাদ পরিষেবা কিছুটা স্বাভাবিক হয়, যা যাত্রীদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছিল।
স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার আগেই ফের বিপদ: বেলগাছিয়ায় মরণঝাঁপ
মাত্র ঘণ্টাখানেকের স্বস্তি। ঠিক সকাল ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ ফের এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বেলগাছিয়া স্টেশনের ডাউন লাইনে। একজন চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি চলন্ত মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেন। সঙ্গে সঙ্গে মেট্রো চালক ব্রেক কষেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই ঘটনার জেরে দক্ষিণেশ্বর থেকে গিরিশ পার্ক পর্যন্ত মেট্রো চলাচল আবার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বাকি অংশে অর্থাৎ গিরিশ পার্ক থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত ট্রেন চালানো হতে থাকে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মেট্রো কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং লাইন থেকে ওই ব্যক্তিকে সরানোর চেষ্টা চলছে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে আবারও স্তব্ধ হয়ে যায় মেট্রো পরিষেবা, যার ফলে দিনের দ্বিতীয়বারের মতো তীব্র যানজট ও জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সপ্তাহের প্রথম দিনেই এমন জোড়া বিপর্যয় তাঁদের অফিস বা গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক দেরি করিয়ে দিয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে অটো বা বাসের দিকে ঝুঁকছেন। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জল জমার সমস্যা মিটে যাওয়ার পর যখন পরিষেবা সবেমাত্র স্বাভাবিক হচ্ছিল, তখনই এই ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তাঁরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তবে, কবে নাগাদ সম্পূর্ণ পরিষেবা চালু হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।