ফোনে মনোজিতের দেওয়া নির্দেশেও র‍্যাগিং ছাত্রীদের!-ফের উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কসবার আইন কলেজের গণধর্ষণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র ওরফে ‘ম্যাঙ্গো’র গ্রেফতারির পর তার অতীত কুকীর্তি একের পর এক সামনে আসছে। বছর চারেক আগেও ম্যাঙ্গো যখন কলেজে ঢুকতে পারত না, তখন তার বাহিনী দুই ছাত্রীকে ইউনিয়ন রুমে ঢুকিয়ে অকথ্য নির্যাতন ও র‍্যাগিং করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং মানসিক ট্রমার কথা উঠে এসেছে নিগৃহীতাদের মুখ থেকে।

চার বছর আগে ম্যাঙ্গো কলেজে প্রবেশ করতে না পারলেও, তার বাহিনী কলেজের ভেতরেই সক্রিয় ছিল। অভিযোগ উঠেছে, মনোজিৎ ফোন মারফত নির্দেশ দিয়ে দুই ছাত্রীকে কলেজের ইউনিয়ন রুমে ঢুকিয়ে অকথ্য অত্যাচার ও র‍্যাগিং করে। সেই র‍্যাগিংয়ের ভিডিও সরাসরি পাঠানো হয়েছিল মনোজিতের কাছে।

এক নিগৃহীতা ছাত্রী বর্ণনা দিতে গিয়ে শিউরে উঠেছেন। তিনি জানান, “আমাদের যা নয় তাই ভাষায় গালিগালাজ করা হতো। চরিত্র তুলে মন্তব্য করা হতো। আমরা রেড লাইট এরিয়াতে থাকি বলেও স্লাট শেমিং পর্যন্ত করা হতো।” কুকথা, চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, পরিবার-পরিজন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, শরীরের নানা অংশ নিয়ে ব্যঙ্গ – কোনো কিছুই বাদ যায়নি সেই নির্যাতনে।

সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো, ম্যাঙ্গোর বাহিনী ওই দুই ছাত্রীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখে নেয়। এরপর ফোনগুলো ফরম্যাট করে ফেরত দেয়। ওই প্রাক্তনীর কথায়, “মনোজিৎ তখনও কলেজে ঢুকতে পারত না। তবে পুরো ঘটনাটাই ও ফোনে ইনস্ট্রাকশন দিয়ে ঘটিয়েছিল।” এমনকি, নিগ্রহের ভিডিও সরাসরি স্পট থেকে মনোজিৎকে পাঠানো হচ্ছিল। যদি ভিডিও তার পছন্দ না হতো, তবে নতুন করে নির্যাতন শুরু করা হতো, যতক্ষণ না মনোজিৎ সন্তুষ্ট হয়। এই ভয়ংকর ঘটনার পর বেশ কিছুদিন ধরে ওই দুই ছাত্রী মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছিল এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। তবে নিগৃহীতারা নিশ্চিতভাবে মনে করতে পারছেন না যে, মনোজিৎ সে সময় ধরা পড়েছিল কিনা। এক নিগৃহীতার কথায়, “আমরা কলেজে মনোজিতের গ্যাংয়ের কথায় চলতাম না বলেই আমাদের টার্গেট করা হয়।”

‘নটোরিয়াস’ ম্যাঙ্গো এর আগেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে ৩ বার কলেজ থেকে সাসপেন্ড হয়েছিল। অথচ সেই ছেলেটিই পরে কলেজের ‘দাদা’ হয়ে ওঠে। বর্তমান ধর্ষণ কাণ্ডে মনোজিতের নাম জড়ানো প্রসঙ্গে ওই প্রাক্তন ছাত্রী বলেন, “ক্যাম্পাসের মেয়েরা ওর জন্য সিঁটিয়ে থাকত। ও এই কাজ করেছে জেনে আমি খুব একটা অবাক হইনি।”

এই নতুন তথ্যগুলো ‘ম্যাঙ্গো’র অপরাধপ্রবণ মানসিকতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে এবং কলেজে তার উত্থানের পেছনে কারা ছিল, সেই প্রশ্ন আরও প্রকট করেছে। এই ঘটনা আবারও শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতির নামে চলা সন্ত্রাসের ভয়াবহ দিকটি জনসমক্ষে এনে দিল।