আহমেদাবাদ বিমান বিপর্যয়! শুধুই কি দুর্ঘটনা, নাকি অন্তর্ঘাত? তদন্তকারীদের নজরে ৭ সম্ভাবনা

গত ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড়ে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিমলাইনার বিমানটি ভেঙে পড়ার পিছনে কী কারণ ছিল, তা এখনও রহস্যে মোড়া। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ২৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই জোরাল হচ্ছে এক চাঞ্চল্যকর সম্ভাবনা—অন্তর্ঘাত। বিশেষ করে, বিমানের দুটি ইঞ্জিন কীভাবে একসঙ্গে বিকল হয়ে গেল, সেই প্রশ্নই এখন তদন্তকারীদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।

একসঙ্গে দুটি অত্যাধুনিক ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া এক অস্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণত এমন ঘটনা ঘটে না। তাই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ জানার ক্ষেত্রে যাতে কোনওরকম সংশয় না থাকে, সেই কারণেই অন্তর্ঘাতের তত্ত্বের উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ব্ল্যাক বক্স থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য ডিকোড করতে পারলেই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য মিলবে।

যে সাতটি সম্ভাব্য উপায়ে অন্তর্ঘাত হতে পারে:

তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিমানটিকে বিপদে ফেলার জন্য সাতটি সম্ভাব্য উপায় চিহ্নিত করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই রহস্যের জট খুলতে মরিয়া গোয়েন্দারা প্রতিটি তত্ত্ব খুঁটিয়ে দেখছেন।

জ্বালানিতে বিষাক্ত ভেজাল: অন্তর্ঘাতের সবথেকে জোরাল সম্ভাবনা হিসেবে উঠে এসেছে জ্বালানিতে ইচ্ছাকৃত রাসায়নিক বদল ঘটানো বা ভেজাল মেশানো। বিমানের জ্বালানি মজুত ও সরবরাহের গোটা প্রক্রিয়াটি এখন তদন্তের আওতায়। আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড স্টাফ এবং জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রক্ষণাবেক্ষণে ইচ্ছাকৃত ত্রুটি: ড্রিমলাইনার বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। রক্ষণাবেক্ষণের সময় ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোনো ত্রুটি রেখে যাওয়া হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন এবং কী ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছিল, তার সব নথি যাচাই করা হচ্ছে।

সাইবার অন্তর্ঘাত: ড্রিমলাইনারের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যে সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাতে কোনো অদলবদল করা হয়েছে কি না, অথবা ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত করা হয়েছিল কি না, তা জানতে ইঞ্জিন কন্ট্রোল ইউনিট ও ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সাইবার অডিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরে বহিরাগতের অনুপ্রবেশ: ঘটনার দিন বিমানবন্দরের ভিতরে নিষিদ্ধ এলাকায় কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই দিনের বায়োমেট্রিক তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, বিশেষ করে বিমান উড়ে যাওয়ার আগের ছবি ও তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল কি AI 757?: এয়ার ইন্ডিয়ার এই নির্দিষ্ট বিমানটিকে ধ্বংস করার কোনো রাজনৈতিক বা গোয়েন্দা-ভিত্তিক কারণ ছিল কি না, তা জানতে গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিদেশি শক্তির যোগসাজশ: বিমানটিতে প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় ছাড়াও ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। ফলে এই দুর্ঘটনার পিছনে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাত থাকতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এটিসি-র যোগাযোগে হস্তক্ষেপ: এটিসি-র সঙ্গে বিমানের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের জিপিএস ব্যবস্থায় কারসাজি বা সিগন্যাল জ্যাম করে দেওয়ার মতো চেষ্টা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

রবিবারই অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী মুরলিধর মহল জানিয়েছেন, আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এখন সবার দৃষ্টি ব্ল্যাক বক্সের ডিকোডিংয়ের দিকে। এই ভয়ঙ্কর রহস্যের জট খুলতে পারে, একমাত্র এর থেকে পাওয়া তথ্যই।