বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ভোট’, দাবি করছে ইউনূস ঘনিষ্ঠ, জেনেনিন বিস্তারিত

বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকার যখন আগামী বছরের এপ্রিল মাসে ‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের কথা বলছে, তখন তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সংশয় দেখা দিয়েছে। যে সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দমনমূলক নীতি, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধীদের দমনের অভিযোগের সম্মুখীন, তাদের মুখে ‘সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন’-এর বুলি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে পর্যবেক্ষক মহল।

খুলনায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহকারী শফিকুল আলম দাবি করেছেন, “এই নির্বাচন হবে উৎসবের মতো।” কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তাদের এই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান। ক্ষমতায় এসেই সরকার একের পর এক দমনমূলক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে:

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ: সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদ, কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশ করলেই গ্রেপ্তার – এসবই এখন বাংলাদেশে নতুন ‘নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিরোধীদের দমনে অভিযোগ: বিরোধীদের সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়া এবং বিরুদ্ধ মত মানেই ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে গণ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

বিতর্কিত ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: এমনকি, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙা থেকে শুরু করে একের পর এক রাজাকারকে বেকসুর খালাস করে দেওয়ার ঘটনায় অনেকেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদের নয়া অধ্যায়’ হিসেবে দেখছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার একদিকে যখন গণতন্ত্রের কথা বলছে, তখন অন্যদিকে তাদের কার্যকলাপে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সমালোচকরা বলছেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়েই যেন সরকার হাস্যকর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও আলোড়ন তুলেছিল। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, এর মাধ্যমে হয়তো বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন সূচনা হবে। তবে গত কয়েক মাসে নতুন সরকারের কার্যকলাপে সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি একরকম কৌতুক বলে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে জনগণের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং মুক্তমতকে দমন করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার রিপোর্ট সেপ্টেম্বরের শেষে আসার কথা। কিন্তু এই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, “এতদিন যারা অন্যের ভোট ছিনতাই নিয়ে কথা বলত, তারাই এখন চোর নিজেই বিচারক সেজে বসেছে।” অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই তদন্ত রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনীতির এই নাটকীয়তা বর্তমানে হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। ‘শান্তিপূর্ণ ভোট’ এবং ‘গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’ নিয়ে সরকারের এই বুলি আদৌ বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।

Editor001
  • Editor001