কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্তদের পুরো নামের পরিবর্তে কেন M-J-P? স্পষ্ট করল পুুলিশ

কসবা গণধর্ষণকাণ্ডের এফআইআর-এ অভিযুক্তদের পুরো নামের বদলে শুধুমাত্র আদ্যক্ষর (P, M, J) ব্যবহার করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল কলকাতা পুলিশকে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠলেও এবার এই বিতর্কের ব্যাখ্যা দিল লালবাজার। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, বছরখানেক আগে লাগু হওয়া নতুন আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (Bharatiya Nyay Sanhita) অনুসরণ করেই এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের ঝড়: কেন আদ্যক্ষর?
ঘটনার স্পর্শকাতরতার কারণে অভিযুক্তদের নামের আদ্যক্ষর ব্যবহার করায় পুলিশকে সমালোচিত হতে হয়। জনমনে প্রশ্ন ওঠে, পুলিশ কি প্রভাবশালী অভিযুক্তদের পরিচয় আড়াল করতে চাইছে? সামাজিক মাধ্যমেও এই নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
লালবাজারের ব্যাখ্যা: নতুন আইনের বিধান কী?
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন আইন অনুযায়ী ধর্ষণ বা পকসোর মতো স্পর্শকাতর মামলায় এফআইআরের দুটি কপি তৈরি করা হয়।
প্রথম কপি (মূল): এই কপিতে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী, উভয়েরই সম্পূর্ণ নাম ও ঠিকানা থাকে। এই কপিটি আদালতে গোপন নথি হিসেবে জমা দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় কপি (ফটোকপি): এই কপিটি মূল কপির ফটোকপি। তবে ফটোকপি করার আগে মূল কপিতে অভিযুক্তদের নামের জায়গায় ‘সাদা কালি’ (whitener) ব্যবহার করে শুধু আদ্যক্ষর লিখে দেওয়া হয়।
পুলিশের যুক্তি, এই দ্বিস্তরীয় ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত, উভয়ের পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষা করা। কারণ, আদালতে নথি জমা পড়ার পর যে কেউ চাইলেই তার সার্টিফায়েড কপি তুলে নিতে পারে। এর ফলে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত – উভয় পক্ষের নাম-ঠিকানা প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কা থেকে যায়। সেই ঝুঁকি এড়াতেই এই নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
তদন্তের গতিবিধি: অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশ
একদিকে যখন এফআইআর নিয়ে বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে পুলিশ তদন্তে কোনো ঢিলেমি দিচ্ছে না। রবিবার গণধর্ষণের ঘটনায় ধৃত প্রমিত মুখোপাধ্যায়ের হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার বাড়িতে যান কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে কথা বলা হয় এবং তাঁদের বয়ান নথিবদ্ধ করা হয়। পুলিশ জানতে চায়, প্রমিত ঘটনার পর বাড়ি এসেছিল কি না এবং তার আচার-আচরণের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল কি না। এছাড়াও, ঘটনার দিন প্রমিতের ব্যবহার করা জামাকাপড়ও বাজেয়াপ্ত করেছে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশের এই ব্যাখ্যার পর বিতর্ক কিছুটা কমলেও, জনতা এবং বিভিন্ন মহল থেকে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।