প্লাবন কাটতে না কাটতেই ফের দুর্যোগের আশঙ্কা বাংলায়, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি জেলায় জেলায়?

প্লাবনের ক্ষতচিহ্ন এখনও মুছে যায়নি, তার মধ্যেই ফের ঘনিয়ে আসছে নতুন দুর্যোগের আশঙ্কা। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ফের এক নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। তার জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। উপকূল এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির জন্য জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। কলকাতাতেও রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস।
আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, এই নিম্নচাপ দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে অগ্রসর হবে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফের এক দফা প্রবল বৃষ্টি হতে চলেছে। বর্ষা প্রবেশ করতেই বাংলায় নিয়ে এসেছিল নিম্নচাপ, আর তার জেরেই জুনের মাঝামাঝি থেকেই রাজ্যে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি চলছে। ইতিমধ্যেই জল ছেড়েছে ডিভিসি, যার ফলে রাজ্যের বহু জেলা প্লাবনের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের ডিভিসি যদি জল ছাড়ে, তাহলে আরও ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা থাকছে।
অন্যদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগর জুড়ে নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র হয়ে উঠছে উত্তাল। দমকা হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার গতিবেগে। সেই কারণে রবিবার থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে নিম্নচাপটি অবস্থান করছে বাংলাদেশ ও সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের উপরে। এর প্রভাবে রবিবার দিনভর আকাশ থাকবে মেঘলা, বৃষ্টি হতে পারে কলকাতাতেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় হতে পারে বেশি বৃষ্টি। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলাতেও প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চলবে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি। এর জেরে কলকাতার তাপমাত্রা খুব একটা বাড়ছে না। শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড হয়েছে ১৮.৬ মিলিমিটার।
সব মিলিয়ে জুনের শেষ সপ্তাহে রাজ্যজুড়ে নতুন করে বৃষ্টি এবং দুর্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।