কসবা গণধর্ষণ কাণ্ড, নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি সম্পন্ন, ‘নির্যাতনের ভিডিও’ উদ্ধার – SIT-এর হাতে চাঞ্চল্যকর প্রমাণ!

কসবা সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে আইনের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে। আজ আলিপুর আদালতে নির্যাতিতা ছাত্রীর গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তের জন্য কলকাতা পুলিশ একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। এরই মধ্যে পুলিশের হাতে এসেছে এক বিস্ফোরক প্রমাণ – অভিযুক্তদের একজনের মোবাইল থেকে উদ্ধার হয়েছে নির্যাতনের ভিডিও!
নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি ও SIT গঠন:
শনিবার দুপুরে কসবা কাণ্ডের নির্যাতিতাকে আলিপুর আদালতে নিয়ে আসা হয়। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার গোপন জবানবন্দি দেন, যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ঘটনার গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা উপলব্ধি করে লালবাজার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। কলকাতা পুলিশ একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ডিসি এসএসডি (সাউথ সাবার্বান ডিভিশন)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার প্রদীপ কুমার ঘোষাল এই টিমের নেতৃত্ব দেবেন। এই সিট গঠিত হওয়ায় মামলার তদন্ত আরও নিবিড়ভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্ল্যাকমেলের উদ্দেশ্যে ‘নির্যাতনের ভিডিও’ ও সিসিটিভি ফুটেজ:
তদন্তে পুলিশের হাতে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, গণধর্ষণ কাণ্ডে ধৃত অভিযুক্তদের একজনের মোবাইল ফোন থেকে ‘নির্যাতনের ভিডিও’ উদ্ধার হয়েছে। নির্যাতিতা ছাত্রী তার অভিযোগে জানিয়েছেন যে, তাকে ব্ল্যাকমেল করার উদ্দেশ্যেই এই ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল। এই আবিষ্কার অপরাধের পূর্বপরিকল্পনা এবং অভিযুক্তদের নৃশংস মানসিকতার পরিচয় দেয়।
পাশাপাশি, ঘটনার দিন, অর্থাৎ গত ২৫ জুনের দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুর ৩:৩০ থেকে রাত ১০:৫০ পর্যন্ত সময়ের এই ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযোগকারিণীর বয়ানের সঙ্গে এই ফুটেজের প্রতিটি অংশ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যা ঘটনার ক্রম এবং অভিযুক্তদের গতিবিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়ক হবে।
কসবা ল কলেজের এই ঘটনা ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি এবং ‘নির্যাতনের ভিডিও’ উদ্ধারের মতো ঘটনা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, যা দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও জোরালো করবে।