কসবা কাণ্ড, গড়িয়াহাটে রণক্ষেত্র, বিজেপির বিক্ষোভে ধুন্ধুমার – ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের’ অভিযোগ সুকান্তর

কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদের আঁচ এবার কলকাতার রাজপথে। আজ গড়িয়াহাটে বিজেপির ডাকা বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগেই পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এই ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের তীব্র ধস্তাধস্তি হয়, এমনকি ব্যারিকেড ভাঙার ঘটনাও ঘটে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার পুলিশের এই পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণের সঙ্গে ‘হিটলারি’ শাসনের তুলনা করেছেন।

বিক্ষোভে উত্তাল গড়িয়াহাট:

শনিবার দুপুরে গড়িয়াহাট মোড়ে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল একত্রিত হচ্ছিল। কসবা কাণ্ডে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিজেপি কর্মীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। তবে পুলিশ মিছিল এগিয়ে যাওয়ার আগেই তা আটকে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত বিজেপি কর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। সুকান্ত মজুমদার স্বয়ং পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও দমন করতে চাইছে এবং এটি গণতন্ত্রের উপর আঘাত।

‘নির্যাতনের ভিডিও’ হাতে, তবুও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ:

এদিকে, কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় ধৃত এক অভিযুক্তের মোবাইল থেকে ‘নির্যাতনের ভিডিও’ উদ্ধার হয়েছে। নির্যাতিতা কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ, তাকে ব্ল্যাকমেল করার উদ্দেশ্যেই এই ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল। এই ভিডিও প্রাপ্তির পর মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে, যা অপরাধের পূর্বপরিকল্পনা এবং নৃশংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৫ জুনের দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ (দুপুর ৩:৩০ থেকে রাত ১০:৫০ পর্যন্ত) উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এখন অভিযোগকারিণীর বিস্তারিত বয়ানের সঙ্গে এই সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখছে। এই ফুটেজ ঘটনার ক্রম, অভিযুক্তদের গতিবিধি এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলের ভূমিকা স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার পরেও পুলিশের এই কঠোর অবস্থান এবং বিরোধীদের প্রতি তাদের দমনমূলক মনোভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার এই পরিস্থিতিতেও গণতন্ত্রের উপর আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন, যা কসবা কাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।