রথের রঙ্গে মাতোয়ারা ভারত, পুরীর ছেড়া পহঁরা থেকে দিঘার প্রথম রথ, ইসকনের আম-রথ!

আজ এক অভূতপূর্ব ভক্তি আর ঐতিহ্যের আবহে মেতে উঠেছে গোটা দেশ। ভগবান জগন্নাথের রথযাত্রা কেবল পুরীর নয়, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের নানা প্রান্তে, নিজ নিজ স্বকীয়তা নিয়ে। পুরীর শতাব্দী প্রাচীন ‘ছেড়া পহঁরা’ থেকে দিঘার নবনির্মিত মন্দিরে প্রথম রথযাত্রা, এমনকি ইসকনের সুগন্ধি আম-রথ—সবকিছুই মিলেমিশে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উৎসবের চিত্র।
পুরীতে ঐতিহ্য ও ভক্তির মেলবন্ধন:
ওড়িশার পুরীতে, প্রথা মেনে গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব পবিত্র ‘ছেড়া পহঁরা’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। রথ টানার আগে তিনি সোনার ঝাড়ু দিয়ে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার রথগুলিকে পরিষ্কার করেন। সকাল থেকেই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা তাঁদের প্রিয় তিন দেবতাকে গুন্ডিচা মন্দিরে টেনে নিয়ে যান, যেখানে দেব-দেবীগণ এক সপ্তাহ অবস্থান করবেন। এই বিশাল জনসমাগমের কারণে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ।
দিঘায় রথযাত্রার ঐতিহাসিক সূচনা:
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘায়, নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরে প্রথমবারের মতো রথযাত্রা শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রথযাত্রার আগেই দিঘায় পৌঁছে যান এবং দুপুর ২টায় রথের দড়িতে টান দিয়ে এই নবযাত্রার শুভ সূচনা করেন। দিঘার জগন্নাথদেবের ‘মাসির বাড়ি’র ধারণা স্থানীয়দের মধ্যে এক নতুন উৎসাহের সঞ্চার করেছে।
ইসকনের বিশেষ আকর্ষণ: ১০৮ প্রকারের আম ও ১১,০০০ কেজি প্রসাদ!
দেশজুড়ে ইসকন মন্দিরগুলিও নিজস্ব ছন্দে রথযাত্রা উদযাপন করছে। এর মধ্যে ইসকন দ্বারকার আয়োজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা জগন্নাথ পুরীর পরেই বৃহত্তম রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত। তাদের রথটিকে ১০৮ প্রকারের আম দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। ইসকন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রায় ১১,০০০ কেজি আম প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করবে। শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে ভক্তরা ইসকন দ্বারকায় রথ টানার সুযোগ পান।
সর্বত্র শুভেচ্ছা ও প্রার্থনা:
এই পবিত্র তিথিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ছত্তিশগড়ের রাজ্যপাল রমেন ডেকা ২০২৫ সালের জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর অফিসিয়াল ‘X’ হ্যান্ডেলে সকলকে জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সকলের “সুখ, সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য এবং সুস্বাস্থ্য” কামনা করে লিখেছেন, “বিশ্বাস এবং ভক্তির এই পবিত্র উৎসব সকলের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য এবং সুস্বাস্থ্য বয়ে আনুক। জয় জগন্নাথ!”
পুরী থেকে দিঘা, এবং দ্বারকা পর্যন্ত – এই রথযাত্রা উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি ভারত জুড়ে ভক্তি, সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়ের একতাকে প্রতিফলিত করে।