“মেয়ের শরীর নিয়ে রাজনীতি হয় না”-কসবা-কাণ্ডে মুখ খুলল TMC, দায় এড়াতে মরিয়া শাসকদল

কসবা আইন কলেজে তরুণী গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। মূল অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্র তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য হওয়ায় তীব্র অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি উঠলেও, বিরোধীদের অভিযোগ, দল নিজেদের কর্মীর দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।

ঘটনার সূত্রপাত কসবার আইন কলেজে এক তরুণীর গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে। ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করে কলকাতা পুলিশ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে মনোজিত মিশ্র অন্যতম। এরপরই নেটমাধ্যমে মনোজিতের সঙ্গে একাধিক তৃণমূল নেতা-নেত্রীর ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।

বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের তরফে শশী পাঁজা স্পষ্ট জানান, কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা, অভিযুক্তদের গ্রেফতারি এবং মোবাইল বাজেয়াপ্ত করার মতো বিষয়গুলি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা চাই, নির্যাতিতা ন্যায়বিচার পান। একজন নাগরিক হিসেবে আমরা তাঁর পাশে আছি।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “একটা অপরাধের সঙ্গে রাজনীতিকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। মেয়ের শরীর নিয়ে রাজনীতি হয় না। তাঁকে সম্মান দিতে হবে।” শশী পাঁজা এই প্রসঙ্গে ‘অপরাজিতা বিল’-এর কথা উল্লেখ করে বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, “অপরাজিতা বিল বিধানসভায় পাশ হয়েছিল ১০ মাস আগেই। এটা মেয়েদের পক্ষে বিল। অপরাধ হলে কঠিন শাস্তি ও ফাঁসির বিধান রয়েছে। কে আটকে রেখেছে? অপরাজিতা বিল আইন হোক।” তিনি আরও যোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল ধর্ষণকারীদের নিয়ে আপস করে না। ফুল-মিষ্টি মালা দিয়ে সংবর্ধনাও দেয় না। কলকাতা পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। আমরা মর্মাহত। পুরো তদন্ত হবে। শাস্তি ওরা পাবেই।”

তবে দলের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য মনোজিত মিশ্রের TMCP যোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি অস্বীকার করিনি সে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ করত না! ছাত্রাবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার জেলার সবচেয়ে নিচু পোস্ট, জেলা কমিটিতে ছিল।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “মিডিয়ার লক্ষ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে দোষারোপ করা। বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এই ঘটনায় সিপিএম ও বিজেপির সমালোচনার জবাবে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের এই বিষয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই। একটা ছেলে খারাপ কাজ করেছে, সে যে খারাপ কাজ করেছে, সেটা আগে থেকে বুঝবেন কীভাবে!” তিনি সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে বিমান বসুর ছবি এবং বিজেপির নেতা ব্রিজভূষণের সঙ্গে প্রথম সারির বিজেপি নেতাদের ছবির প্রসঙ্গ টেনে পালটা প্রশ্ন তোলেন। কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগের কথাও মনে করিয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “কার্তিক মহারাজকে গ্রেফতার করা হোক। ধর্ষণে অভিযুক্তদের রক্ষা করে প্রশ্রয় দেয় বিজেপি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণে যেতে চাই না। সামাজিক অপরাধ এটা।”

যদিও বিরোধীরা শাসকদলের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, একজন অভিযুক্ত যখন শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তখন দায় এড়ানোর এই প্রচেষ্টা হাস্যকর। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কি এই ঘটনার দায়ভার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারবে, নাকি এই ঘটনা শাসকদলের ভাবমূর্তিতে আরও কালিমা লেপন করবে? ঘটনার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হয় এবং দোষীদের কী শাস্তি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।